স্বাস্থ্যসাথী কি বন্ধ হচ্ছে? আয়ুষ্মান ভারত আসতেই হাসপাতালগুলোতে চরম বিভ্রান্তি!

৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। আর এই পালাবদলের সঙ্গেই আগের সরকারের একাধিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে প্রবল সংশয়। বিশেষ করে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প কি চলবে, না কি তার জায়গায় আসবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’— তা নিয়ে এখন তিলোত্তমার হাসপাতাল পাড়ায় বইছে ধোঁয়াশার হাওয়া।

প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন থেকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলো। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখন থেকে রাজ্যে কার্যকর হবে। কিন্তু এই ঘোষণার পরেই প্রশ্ন উঠছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের পকেটে থাকা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের কী হবে?

শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মিশ্র ছবি কলকাতার বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে এক অদ্ভুত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো হাসপাতাল পরিষেবা জারি রাখলেও, অনেকেই আবার সরাসরি না করে দিচ্ছে।

  • পিয়ারলেস হাসপাতাল: হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র জানিয়েছেন, সরকারি কোনো লিখিত নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত তারা কার্ড গ্রহণ করবেন।

  • নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস ক্যান্সার হাসপাতাল: এখানে কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে কার্ড নেওয়া হচ্ছে। তবে রেডিয়েশন বা নতুন সার্জারির অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী বুধবারের মধ্যে ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

  • অ্যাপোলো হাসপাতাল: সূত্রের খবর, বাইপাস সংলগ্ন এই হাসপাতালে আগের মতোই কেবলমাত্র অঙ্কোলজি বা ক্যান্সার বিভাগ ছাড়া অন্য কোথাও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেওয়া হচ্ছে না।

রোগীদের ভোগান্তি ও ডক্টরস ফোরামের উদ্বেগ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের হেল্পলাইনে ইতিমধ্যেই ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়ছে। হাওড়া ও কলকাতার বেশ কিছু নার্সিংহোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করছে বলে দাবি রোগীদের। এই পরিস্থিতিতে ময়দানে নেমেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’। মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার অজুহাতে কোনোভাবেই যেন জীবনদায়ী চিকিৎসা বন্ধ না করা হয়।

ভবিষ্যৎ কী? শুভেন্দু সরকার আয়ুষ্মান ভারত চালু করলেও, স্বাস্থ্যসাথী পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করেনি। তবে হাসপাতালগুলির একাংশের দাবি, বকেয়া টাকা মেটানো এবং আগামীর নীতি নিয়ে সরকারের তরফে দ্রুত কোনো স্পষ্ট নির্দেশ না এলে এই জটিলতা আরও বাড়বে। আপাতত আংশিক অচলাবস্থার মধ্যেই কোনো রকমে ধুঁকছে বাংলার এই নিজস্ব স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy