তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টলিউডের দাপুটে নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পরই ভয়াবহ জনরোষের মুখে পড়ল ‘সুরুচি সঙ্ঘ’। শুক্রবার বিকেলে স্বরূপের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউ আলিপুরের ওই ক্লাবে চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। ভেঙে ফেলা হয় ক্লাবের ব্যানার, ফ্লেক্স এবং ঢুকে পড়া হয় ক্লাবঘরে।
সুরুচি সঙ্ঘে ভাঙচুর ও নথিপত্র উদ্ধার এদিন বিকেল থেকেই সুরুচি সঙ্ঘের সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। অভিযোগ, ক্লাবে কোনো অসামাজিক কাজ বা আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা দেখার অছিলায় স্থানীয় বাসিন্দারা জোর করে ক্লাবের ভেতরে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্লাবের ভেতর থেকে বস্তা ভর্তি শাড়ি, সাদা থান, টেলিভিশন সেট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশির সময় ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ নির্বাচনের ভোটার তালিকা, [Aadhaar Redacted] এবং যুবশক্তির ফর্ম উদ্ধার হয়েছে। ভাঙচুরের সময় ‘চোর’ স্লোগান দিতেও শোনা যায় উপস্থিত জনতাকে। একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘মিক্সিটা নিয়ে নে, ওটা কাজে লাগবে!’’
কেন রোষের কেন্দ্রে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’? দীর্ঘদিন ধরেই টলিউড পাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শিল্পী ও কলাকুশলীদের হেনস্থা, তোলাবাজি এবং ‘ব্যান কালচার’ চালানোর অভিযোগ ছিল। অভিযোগ, স্বরূপের নির্দেশ অমান্য করলেই শিল্পীদের কাজ পাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। টেকনিশিয়ান স্টুডিও গিল্ডের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়াও রিজেন্ট পার্কের এক মেকআপ আর্টিস্টের করা শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অরূপ বিশ্বাসের ওপরও নজর পুলিশের একদিকে ভাই স্বরূপের গ্রেফতারিতে যখন কোণঠাসা তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস, ঠিক তখনই বিধাননগর পুলিশের নজরে তিনি নিজে। ‘মেসি’ (MESSY) সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ। আগামী ৫ জুনের মধ্যে তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টলিউডে ‘জুনিয়র বিশ্বাস’ হিসেবে পরিচিত স্বরূপের এই পতনের পর এখন রাজনৈতিক ও চলচ্চিত্র মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে এই সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, তা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।





