স্কুলের শৌচাগারে রক্তের দাগ! ছাত্রীদের জোর করে পোশাক খুলে ‘পিরিয়ড’ পরীক্ষা, দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি বেসরকারি স্কুলে এক অমানবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের শৌচাগারে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের জোর করে জামা খুলিয়ে ‘শারীরিক পরীক্ষা’ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ছাত্রীরা ঋতুস্রাবে রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করতেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং এক মহিলা অ্যাটেনড্যান্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ঘটনা যেভাবে ঘটল
মঙ্গলবার স্কুলের সাফাই কর্মীরা টয়লেটে রক্তের দাগ দেখতে পান। তারা সেই দাগের ছবি তুলে স্কুলের শিক্ষকদের দেখান। এরপর ওই ছবি প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্কুলের হল ঘরে ডাকা ছাত্রীদের দেখানো হয়। মূলত পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলের প্রিন্সিপাল ছাত্রীদের দুটি দলে ভাগ করতে নির্দেশ দেন – যারা ঋতুস্রাবে রয়েছে এবং যারা নয়। এরপর যারা ঋতুস্রাবে নেই বলে জানান, তাদের নিয়ে যাওয়া হয় টয়লেটে এবং সেখানে এক মহিলা পিয়নের মাধ্যমে তাদের ‘শারীরিক পরীক্ষা’ চালানো হয়।

‘শারীরিক পরীক্ষা’র নামে চরম লাঞ্ছনা
অভিযোগ উঠেছে যে, ১০-১২ বছর বয়সী ছাত্রীদের অন্তর্বাসে হাত দিয়েও ঋতুস্রাব হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়। এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছিল, অথচ সে জানিয়েছিল সে ঋতুস্রাবে নেই। এরপরই ওই ছাত্রীকে সবার সামনে অপমান করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। মেয়েটিকে জোর করে অপমান করে তার আঙুলের ছাপও নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যাতে পরবর্তীতে সে কথা অস্বীকার না করতে পারে।

অভিভাবকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর ছাত্রীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। কোনোমতে ক্লাস সেরে বাড়ি ফিরে তারা সমস্ত ঘটনা অভিভাবকদের জানায়। এরপরই বুধবার স্কুলের বাইরে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা, এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানে রুরাল পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনায় স্কুলের প্রিন্সিপাল, মহিলা পিয়ন, চারজন শিক্ষিকা এবং দুই ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রিন্সিপাল ও পিয়নকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ছাত্রীরা যে ভয়াবহভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে, তার যথোপযুক্ত বিচার হবে। স্কুলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের বক্তব্য – সবকিছু খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হবে।

এই ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং তাদের ব্যক্তিগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার অভাবকে প্রকট করে তুলেছে, যা নিয়ে সমগ্র দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy