ভারতজুড়ে এখন ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E20) নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে তাদের গাড়ি-বাইকের মাইলেজ কমে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে আজ, সোমবার (০১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি করতে চলেছে।
E20 জ্বালানি কী?
E20 জ্বালানি হলো এমন এক ধরনের পেট্রোল, যেখানে ২০% ইথানল এবং ৮০% পেট্রোল মেশানো থাকে। সরকার ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে ধীরে ধীরে এই জ্বালানি চালু করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
- তেল আমদানির উপর দেশের নির্ভরতা কমানো।
- গাড়ির ধোঁয়া থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো।
- আখ চাষীদের সহায়তা করা, কারণ আখ থেকে ইথানল তৈরি হয়।
বিতর্কের কারণ কী?
এই জ্বালানি নিয়ে প্রধান বিতর্কের কারণ হলো, ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়ি-বাইকগুলো এর জন্য উপযুক্ত নয়। পুরানো গাড়িতে E20 ব্যবহার করলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:
- গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া।
- ইঞ্জিনে মরিচা পড়া বা ক্ষতি হওয়া।
- রাবার এবং প্লাস্টিকের পাইপ নষ্ট হয়ে যাওয়া।
অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে E20 ব্যবহারের পর তাদের গাড়ির মাইলেজ প্রায় ১০% কমে গেছে। যদিও ইথানল পেট্রোলের চেয়ে সস্তা, কিন্তু বেশি পরিমাণে জ্বালানি খরচ হওয়ায় তাদের মোট খরচ আসলে বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ এবং সংস্থাগুলোর মতামত
ইথানল ব্যবহারের ফলে মাইলেজ কমার অভিযোগ কিছুটা সত্যি বলে মেনে নিয়েছেন কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। মারুতি সুজুকির এক সদস্য জানিয়েছেন যে পরীক্ষামূলক পরিবেশে মাইলেজ ২-৪% কমলেও, বাস্তব রাস্তায় তা আরও বেশি হতে পারে। তবে, তারা এও জানিয়েছেন যে E20 ব্যবহারে গাড়ির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে না।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল জ্বালানি কার্বন ডাই অক্সাইড কম করলেও, অ্যালডিহাইডের মতো কিছু ক্ষতিকর উপাদান বাড়াতে পারে। এছাড়াও, ইথানলের জন্য আখ চাষ বাড়ালে তা ভারতের জল সংকটের সমস্যাকে আরও বাড়াতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে। জনস্বার্থ মামলাটির মূল দাবি হলো, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে E20-র পাশাপাশি ইথানল ছাড়া সাধারণ পেট্রোল বা E0 বিকল্প হিসেবে রাখা হোক, যাতে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করতে পারেন।