ভারতীয় আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের যে কোনও আস্ফালন রুখে দিতে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাশিয়া থেকে ভারতে আসছে চতুর্থ S-400 ট্রায়াম্ফ (Triumf) মিসাইল সিস্টেম। নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে, সিস্টেমটির চতুর্থ ইউনিটটি ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে জাহাজে রওনা দিয়েছে এবং মে মাসের শুরুতেই তা ভারতের বন্দরে পৌঁছাবে।
🛡️ কেন এই S-400 ভারতের জন্য গেম-চেঞ্জার?
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor) চলাকালীন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য নজর কেড়েছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। পাকিস্তান ও চীন সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই S-400 ব্যবস্থাটি তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও রাজস্থান সেক্টরে এই সিস্টেমের মোতায়েন শত্রুপক্ষের ড্রোন, যুদ্ধবিমান বা ব্যালেস্টিক মিসাইলকে ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
📊 প্রতিরক্ষা চুক্তির বর্তমান অবস্থা:
পুরানো চুক্তি: ২০১৮ সালে রাশিয়ার সাথে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৫টি S-400 সিস্টেমের চুক্তি হয়েছিল। যার মধ্যে ৩টি ইউনিট ইতিমধ্যেই সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে।
পঞ্চম ইউনিট: আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে চুক্তির শেষ তথা পঞ্চম ইউনিটটি ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নতুন মাইলফলক: অপারেশন সিন্দুরে এই সিস্টেমের অভাবনীয় সাফল্যের পর ভারত আরও অতিরিক্ত ৫টি S-400 ইউনিট কেনার সবুজ সংকেত দিয়েছে। অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে ভারতের অস্ত্রাগারে মোট ১০টি এই শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম থাকবে।
🛰️ রাজস্থান সীমান্তে মোতায়েন হতে পারে নতুন ইউনিট
প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, সদ্য আসা এই চতুর্থ ইউনিটটি রাজস্থান সেক্টরে মোতায়েন করা হতে পারে। লক্ষ্য একটাই— পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের যে কোনও আকাশপথের হুমকিকে শুরুতেই স্তব্ধ করে দেওয়া। এর অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা শত্রু দেশের গভীরেও নজরদারি চালাতে সক্ষম, যা ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রতিক্রিয়ার জন্য বাড়তি সময় দেবে।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে ভারত ও রাশিয়ার এই প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক বড় জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





