শুক্রবার সকালে দমদম স্টেশনে এক সাধারণ দিনের শুরুটা আচমকাই এক অসাধারণ ঘটনায় পরিণত হল। শিয়ালদহ-রানাঘাট লোকালে দুই যাত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া বচসা থেকে হাতাহাতি, আর তারপর প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে রেললাইনে নেমে যাওয়া। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এক আরপিএফ মহিলা কনস্টেবলের অদম্য সাহস আর তৎপরতা এক যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে দিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা হতবাক, আর গোটা ঘটনা যেন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানিয়েছে।
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত হয় শিয়ালদহ-রানাঘাট লোকালে। কোনো এক বিষয় নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়েন দুই যাত্রী। প্রথমে ঝগড়া, তারপর তা রূপ নেয় হাতাহাতির। কামরার অন্য যাত্রীরা তাদের থামাতে পারেননি, বাধ্য হয়ে খবর দেন আরপিএফকে। আরপিএফ কর্মীরাই এরপর দুজনকে টেনে নামান দমদম স্টেশনে।
কিন্তু স্টেশনে নামার পরেও তাদের থামানো যায়নি। একে অপরের জামার কলার ধরে কিল, চড়, ঘুষি মারতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্ল্যাটফর্মে মারামারি করতে করতেই আচমকাই এক যাত্রী রেললাইনে ঝাঁপ মারেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যারাকপুর লোকাল লাইনে ঢুকছিল। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি আরপিএফ-এর মহিলা কনস্টেবল করুণা কুমারী। তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়েন লাইনে। চোখের পলকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন ওই যাত্রীকে এবং তারপর নিজেও লাফিয়ে সরে যান পাশে। পুরো ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যায় যে স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীরা হতবাক হয়ে যান।
তবে এই বীরত্বপূর্ণ কাজের মূল্য দিতে হয়েছে করুণা কুমারীকে। লাফিয়ে পড়ার সময় তাঁর মাথা ফেটে যায়। অন্যদিকে, রেললাইনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আঘাত পান যাত্রী জগদীশচন্দ্র সরকারও। দু’জনকেই তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “রানাঘাট-শিয়ালদহ লোকাল থেকে ওই যাত্রীদের নামানো হয়েছিল। এরপরই একজন স্টেশন থেকে রেল লাইনে লাফ দেন। তাঁকে বাঁচাতেই আরপিএফ মহিলা কনস্টেবল কর্মী রেল লাইনে নামেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।”
করুণা কুমারীর এই চরম আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর এই দৃষ্টান্তমূলক কাজ প্রমাণ করে, দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিতরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছপা হন না।