কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে সন্তানের জন্মের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। নবজাতকের কপালে ব্যান্ডেজ দেখে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান এবং দ্রুত এর কারণ জানতে চান।
জানা গেছে, দিনহাটা বড় শোলমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বিউটি খাতুন গতকাল রাত ১০টা নাগাদ প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার দুপুর নাগাদ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিবারের সদস্যরা সদ্যোজাতকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও যখন তাদের সন্তানকে দেখানো হচ্ছিল না, তখন পরিবারের সদস্যরা সরব হন।
এরপর হাসপাতালের চাপে নবজাতককে অভিভাবকদের সামনে আনা হয়। আর তখনই পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, নবজাতকের মাথার অনেকটা অংশ কেটে গিয়েছে এবং সেখানে ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। সন্তানের এমন অবস্থা দেখে পরিবার স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে শোরগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রসূতির স্বামী সালাম মিঞা দিনহাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতির ডেলিভারিটি জটিল প্রকৃতির ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় কোনো কারণে ধারালো অস্ত্র নবজাতকের কপালের দিকে লাগে। এই ঘটনায় সদ্যোজাতর কপালে দুটি সেলাই পড়েছে। বর্তমানে নবজাতক এবং প্রসূতি উভয়ই সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল জানিয়েছে। তবে এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।





