‘সার্টিফিকেট দিয়ে সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার নয়!’ অরূপ বিশ্বাসকে কড়া হুঁশিয়ারি শতদ্রুর

যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান পণ্ড ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আইনি জালে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নির্দিষ্ট দিনে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করলেন তিনি। এই হাজিরা এড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কী অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে? মেসি ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা এফআইআর (FIR)-এর ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসকে ৫ জুন দুপুর ১২টায় থানায় তলব করা হয়েছিল। আয়োজকের অভিযোগের তালিকাটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও গুরুতর। তাঁর দাবি:

  • মেসি ইভেন্টের প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন অরূপ বিশ্বাস।

  • প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে গ্লোবাল ফুটবল আইকন মেসির গায়ে হাত দিয়েছেন তিনি।

  • তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির আওতায় তোলাবাজি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

হাজিরা এড়াতেই কি অসুস্থতা? তলব পাওয়ার ঠিক পরেই প্রাক্তন মন্ত্রীর হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়া ও সময় চাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু মনে রাখবেন—মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না।” দীর্ঘ ৩৭ দিন হাজতবাসের যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মন্ত্রীমশাইকে তিনি আইনি লড়াইয়ে কোনোভাবেই ছাড়বেন না।

মেসি-কাণ্ড ও অরূপের পতনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে আয়োজিত সেই মেগা ইভেন্ট চরম বিশৃঙ্খলায় পর্যবসিত হয়। অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে, অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই পণ্ড হয়ে যায়। স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করেন। পরবর্তীতে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর টেবিল ঘুরেছে। চাপে পড়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস।

বর্তমানে প্রাক্তন মন্ত্রীর এই হাজিরা এড়িয়ে যাওয়াকে নিছকই শারীরিক অসুস্থতা নাকি আইনি কৌশলের অংশ, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল। শতদ্রু দত্তের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে অরূপ বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত তদন্তের মুখোমুখি হন কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy