দীর্ঘ ১৩ বছর পর সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর হতেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ তুলে ফের একবার ‘চিটফান্ড’ কাঁটা বিঁধল শাসকদলের গায়ে।
আব্দুল মান্নানের তোপ: “বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার বঞ্চিত” সারদা মামলা নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন চালানো প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বলেন:
প্রহসন: বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই জামিন পাওয়াকে তিনি বিচারের নামে প্রহসন বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতারিতদের মৃত্যু: মান্নানের দাবি, সারদা কেলেঙ্কারিতে ১৫৮ জন প্রতারিত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একবারও তাঁদের কথা ভাবেননি।
কালীঘাট কানেকশন: মান্নান সরাসরি অভিযোগ করেন, “কুণাল ঘোষ নিজেই জানিয়েছিলেন সব টাকা কালীঘাটে গিয়েছে। আর যিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করলেন, তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠালেন মমতা।”
সুজন চক্রবর্তীর ‘ফটো সেশন’ খোঁচা: সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন:
“মুখ্যমন্ত্রী এবার মধ্যিখানে বসে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করুন। তাঁর একপাশে থাকুক চিটফান্ড প্রতারক সুদীপ্ত সেন, আর অন্য পাশে থাকুক সেই তৃণমূল নেতা (কুণাল ঘোষ) যিনি বলেন সারদার সবথেকে বড় বেনিফিশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেলোর পাহাড়ে এঁদের নিয়েই মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল।”
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: বুধবার দুটি মামলায় সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁর জেল থেকে বেরোনো এখনও অনিশ্চিত। আদালত সূত্রের খবর, রাজ্যের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে, যার ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেও আইনি জট এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
ভোটের ময়দানে চিটফান্ড ইস্যু: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সুদীপ্ত সেনের জামিন এবং বিরোধীদের এই আক্রমণ তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষকে নিয়ে মান্নান-সুজনদের আক্রমণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।





