শহরের এক অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে ‘আখরি সওয়াল’ ছবির প্রচারে এসে নারী স্বাধীনতা ও টলিউডের অন্দরের রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে টলিউডের হাল ফেরাতে যে ৪ জন বিজেপি নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, লকেট তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এদিন সেই ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, টলিউডে আর কোনো ‘ব্যান কালচার’ বা শিল্পীদের কাজ কেড়ে নেওয়ার রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে থাকা শিল্পীদের কাজ না পাওয়া বা ‘ব্যান’ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লকেট বলেন, “২০১৪ সালে যখন আমি বিজেপিতে যোগ দিই, তখন আমাকেও কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বড় প্রযোজকরা কন্ট্রাক্ট সাইন করার পর আমাকে সোজাসুজি জানিয়েছিলেন যে উপর থেকে নির্দেশ আছে, তাই আমাকে নাম বাদ দিতে হবে। সেই সময় কোনো শিল্পী আমার পাশে দাঁড়াননি।” লকেট এদিন বার্তা দেন যে, তাঁর নেতৃত্বে গঠিত টিম নিশ্চিত করবে যেন কোনো শিল্পীর পেটের ভাত কেউ না মারতে পারে এবং কোনো শিল্পীর গায়ে যেন রাজনীতির রং না লাগানো হয়।
পাশাপাশি, রাজ্যের মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যেরও কড়া জবাব দেন লকেট। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “বাংলার মহিলারা যথেষ্ট স্মার্ট এবং সচেতন। আমরা ক্ষমতায় আসার পর কোনো নারীর পোশাক, খাবার বা কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। যাঁরা ভয় দেখাচ্ছেন, তাঁরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। নিশ্চিন্তে থাকুন, সরকার আপনাদের কোনো বিষয়েই বাধা দেবে না।”
এদিন ছবির প্রচারে এলেও লকেট চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। টলিউড থেকে ছিটকে যাওয়া ব্রাত্য শিল্পীদের ফেরানোর যে আশ্বাস তিনি দিয়েছেন, তা আগামী দিনে টলিউডের শিল্প-বাণিজ্যকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার। তবে নিজে আবার কবে রুপোলি পর্দায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো সবুজ সংকেত দেননি অভিনেত্রী তথা নেত্রী।





