আম আদমি পার্টির (AAP) সাথে দীর্ঘ ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে অবশেষে বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চড্ডা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দল পরিবর্তন করলেও তাঁর রাজ্যসভার সদস্যপদ বাতিল হচ্ছে না। সাধারণত ‘দলবদল বিরোধী আইন’ (Anti-Defection Law) অনুযায়ী কোনো সাংসদ বা বিধায়ক দল ছাড়লে তাঁর পদ চলে যায়। তবে রাঘব চড্ডা একা নন, নিজের সাথে আরও ৬ জন আপ সাংসদকে নিয়ে বড়সড় চাল চেলেছেন।
কীভাবে বাঁচল রাঘব চড্ডার সাংসদ পদ? ভারতীয় সংবিধানের দশম তফশিল (Tenth Schedule) অনুযায়ী, কোনো দলের সাংসদরা যদি দলবদল করেন, তবে তাদের সদস্যপদ রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট শর্ত কাজ করে:
দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) নিয়ম: যদি কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়ক একসাথে দল ছাড়েন এবং অন্য কোনো দলের সাথে ‘একীভূত’ (Merge) হন, তবে দলবদল বিরোধী আইন তাঁদের ওপর কার্যকর হয় না।
অঙ্কের হিসাব: রাজ্যসভায় আপ-এর মোট সাংসদ সংখ্যা ছিল ১০ জন। নিয়ম অনুযায়ী, পদ বাঁচাতে হলে অন্তত ৭ জন সাংসদকে একসাথে দল ছাড়তে হতো।
রাঘব চড্ডার চাল: রাঘব ঠিক এই সংখ্যাটিই পূরণ করেছেন। তাঁর সাথে রয়েছেন সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তাল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রমজিৎ সিং সাহনি এবং স্বাতী মালিওয়াল। এই ৭ জন মিলে বিজেপির সাথে ‘মার্জার’ বা একীভূত হওয়ার ঘোষণা করায় তাঁদের সদস্যপদ অক্ষুণ্ণ থাকছে।
কেন এই বিদ্রোহ? সূত্রের খবর, গত কয়েকমাস ধরে আপ-এর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে পাঞ্জাবের ইস্যু নিয়ে রাঘব চড্ডার সাথে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তাঁকে রাজ্যসভার উপ-দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই এই ফাটল স্পষ্ট হয়। অবশেষে ২০২৬-এর পাঞ্জাব নির্বাচনের ঠিক আগে এই গণ-দলবদল অরবিন্দ কেজরীওয়ালের দলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: বিজেপি এই ঘটনাকে ‘সত্যের জয়’ এবং ‘মোদিজির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা’ হিসেবে তুলে ধরছে। রাঘব চড্ডা জানিয়েছেন, তিনি সঠিক মানুষ হয়েও ভুল দলে ছিলেন এবং দেশের স্বার্থে কাজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উপসংহার: রাঘব চড্ডার এই আইনি কৌশলী পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল যে, রাজনীতিতে শুধু জনসমর্থন নয়, সংবিধানের ধারার ওপর দখল থাকাও কতটা জরুরি। এই দলবদলের ফলে রাজ্যসভায় আপ-এর শক্তি যেমন কমল, তেমনই পাঞ্জাব ও দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো।





