কর্ণাটকের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রের মারাত্মক কাণ্ড সমাজে শিশু মনস্তত্ত্বের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্কুলের ‘মনিটর’ বা নেতা করা হলেও সহপাঠীদের অবহেলার শিকার হয়ে সেই ছাত্র স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে কীটনাশক মিশিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তার এই আচরণ থেকে শিশুদের মধ্যে হতাশা এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য চরম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বোঝা যায়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ১১ বছর বয়সী ওই ছাত্রকে স্কুলে নেতা করা হয়েছিল, কিন্তু তার নির্দেশ কেউ মানছিল না। প্রায় ১৫ দিন আগে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্র সহপাঠীর জলের বোতলে ফেনল মিশিয়ে দিয়েছিল। এই ঘটনা থেকেই ওই ছাত্রের মনে আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা আসে। সহপাঠীরা তার কথা না শোনায় সে হতাশা থেকে এই ভয়ংকর কাজ করে।
পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার বলেন, “ছেলেটি আদা সংরক্ষণের জন্য বাড়িতে ব্যবহৃত কীটনাশক নিয়ে এসেছিল। স্কুলে এসে সে জলের ট্যাঙ্কে তা মিশিয়ে দেয়। এই ঘটনা দেখে ফেলা অন্য ছাত্রদের সে হুমকি দেয়, যাতে তারা কাউকে কিছু না জানায়।”
এই ঘটনাটি শিশুদের মধ্যে মানসিক চাপ, একাকীত্ব এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের উপর আলোকপাত করে। শিক্ষাবিদ এবং মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র শাস্তি নয়, বরং এমন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কাউন্সেলিং দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনা শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজে মিশে থাকার ক্ষমতার অভাবের এক দুঃখজনক চিত্র তুলে ধরেছে।





