দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আর কোনো নরম মনোভাবে নেই নির্বাচন কমিশন। বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি ‘মস্তান’ ও ‘গুণ্ডাবাহিনী’কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানাল কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, ভোটের মাঠে যারা অশান্তি পাকানোর ছক কষছে, তাদের দমানোর জন্য প্রশাসনের কাছে ‘সব রোগের ওষুধ’ মজুত আছে।
কমিশনের ‘কড়া ডোজ’
আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ভোট গ্রহণ। তার আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক অত্যন্ত কড়া সুরে বার্তা দেন। তাঁর কথায়, “নির্বাচন মানে গণতন্ত্রের উৎসব, কোনো পেশিশক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়। যারা নিজেদের এলাকার ‘মস্তান’ ভাবছেন, তারা জেনে রাখুন— কমিশনের কাছে সব কিছুর ওষুধ আছে।”
অ্যাকশন মোডে প্রশাসন
ইতিমধ্যেই রাজ্যে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। কমিশনের এই ‘ওষুধ’ মন্তব্য মূলত সেই সমস্ত দুষ্কৃতীদের উদ্দেশ্যে, যারা ভোটের দিন বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানোর পরিকল্পনা করে।
নিরাপত্তায় কী কী ‘ওষুধ’ থাকছে?
কুইক রেসপন্স টিম (QRT): অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এরিয়া ডমিনেশন: স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রাতভর রুট মার্চ ও নাকা চেকিং।
সরাসরি নজরদারি: ওয়েবকাস্টিং এবং ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিটি বুথের ওপর রাখা হচ্ছে কড়া নজর।
শান্তিপূর্ণ ভোটের গ্যারান্টি
কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতেই এই ধরনের ‘আগ্রেসিভ’ মন্তব্য করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মোটকথা, দ্বিতীয় দফায় কোনো রকম রিগিং বা গোলমাল রুখতে কমিশন যে লোহার হাত ব্যবহার করতে চলেছে, তা পরিষ্কার।





