জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, লাল গালিচা সংবর্ধনা আর নৈশভোজের রাজকীয় আবহ—সবই ছিল। কিন্তু যে মূল লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের মাটিতে পা রেখেছিলেন, তা কি শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল? তিন দিনের হাই-প্রোফাইল চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার পর ট্রাম্পের রহস্যজনক নীরবতা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই সফরকে মার্কিন কূটনীতির জন্য একটি চরম ‘ব্যর্থতা’ বা ‘ফ্লপ শো’ হিসেবেই দেখছেন।
টানা তিন দিন ধরে বেইজিংয়ের বিলাসবহুল হলরুমে চলেছে দফায় দফায় বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ আর আলাপচারিতা। ট্রাম্পের এই সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মার্কিন ক্যাবিনেটের শীর্ষ ৩ মন্ত্রী এবং আমেরিকার প্রথম সারির ৩০ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল, দুই পরাশক্তির মধ্যে হয়তো কোনো ঐতিহাসিক চুক্তি হতে চলেছে। কিন্তু সফর শেষে যখন দেখা গেল কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি, এমনকি একটি যৌথ বিবৃতি পর্যন্ত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, তখন জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
তাহলে এই বিপুল অর্থ খরচ এবং দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র আদতে কী লাভ করল?
নয়াদিল্লি বা বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মহলের ধারণা ছিল, ট্রাম্পের এই বেইজিং সফরে হয়তো শুল্ক যুদ্ধ বা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বড় কোনো সমাধান সূত্র মিলবে। কিন্তু বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক দাবিদাওয়া নিয়ে বিশেষ কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। বাণিজ্য থেকে শুরু করে ভূ-রাজনৈতিক কৌশল—কোনো ক্ষেত্রেই বেইজিং তাদের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি। ফলস্বরূপ, ৩০ জন শীর্ষ কর্পোরেট লিডারকে সঙ্গে নিয়েও ট্রাম্প মার্কিন অর্থনীতির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বা দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা আদায় করতে পারেননি।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধানদের এই ধরনের মেগা সফর শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর সহজ অর্থ হলো, পর্দার পিছনের আলোচনাগুলোতে দুই দেশের মতবিরোধ এতটাই তীব্র ছিল যে, তারা ন্যূনতম কোনো সাধারণ সহমতে পৌঁছাতে পারেনি। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে আতিথেয়তায় কোনো খামতি না থাকলেও, কাজের কাজ অর্থাৎ আমেরিকার স্বার্থ সুরক্ষার জায়গাটি পুরোপুরি শূন্যই রয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই ‘খালি হাতে’ ফেরা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্য যুদ্ধে নতুন কোনো মোড় আনে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





