সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF) অন্যতম সেরা বিকল্প। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট এবং সন্তানের নামে অন্য একটি অ্যাকাউন্ট থাকলে মোট ৩ লক্ষ টাকা (দেড় লক্ষ + দেড় লক্ষ) জমা করে কর ছাড় পাওয়া সম্ভব। আপনিও কি এমনটা ভাবছেন? তবে সাবধান! পিপিএফ-এর কড়া নিয়ম আপনার এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে।
কী বলছে সরকারি নিয়ম?
পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের নামে একটি এবং নাবালক সন্তানের অভিভাবক (Guardian) হিসেবে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন:
জমার ঊর্ধ্বসীমা: আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট এবং আপনার অভিভাবকত্বে থাকা নাবালক সন্তানের অ্যাকাউন্টের মোট জমার পরিমাণ বছরে ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারবে না। * অর্থাৎ, আপনি নিজের অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ টাকা রাখলে সন্তানের অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকাই রাখতে পারবেন। দুই অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে কোনোভাবেই দেড় লক্ষ টাকার গণ্ডি পার হওয়া যাবে না।
যদি ৩ লক্ষ টাকা জমা করেন তবে কী হবে?
ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে যদি দুই অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে দেড় লক্ষ টাকার বেশি জমা পড়ে যায়, তবে অতিরিক্ত অর্থের ওপর কোনো সুদ পাওয়া যাবে না। এমনকি আয়কর আইনের ৮০সি (Section 80C) ধারা অনুযায়ী ওই বাড়তি জমার ওপর কোনো ট্যাক্স বেনিফিটও মিলবে না। পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্ক ওই অতিরিক্ত টাকা কোনো সুদ ছাড়াই আপনাকে ফেরত দিয়ে দেবে।
স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?
হ্যাঁ, যদি মা এবং বাবা দুজনেরই আলাদা পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে তাঁরা দুজনেই আলাদা আলাদা ভাবে দেড় লক্ষ টাকা করে মোট ৩ লক্ষ টাকা জমা করতে পারেন। কিন্তু সন্তানের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে যেকোনো একজনই (মা অথবা বাবা) অভিভাবক হিসেবে থাকতে পারবেন এবং সেই লিমিটটি তাঁর নিজের অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত হবে।
মেয়াদ ও অন্যান্য সুবিধা
সন্তানের নামে খোলা পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মেয়াদও ১৫ বছর। সন্তান ১৮ বছর পূর্ণ করলে সে নিজেই ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে। দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় এবং সরকারি গ্যারান্টি থাকায় এটি আজও বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ।





