গত বছর ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রর হৃদস্পন্দন। কিংবদন্তি অভিনেতার চলে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। কিন্তু এই পাঁচ মাসে দেওল পরিবারের অন্দরের ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ববি দেওল জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যু তাঁদের দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের দূরত্ব মুছে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছে।
১. অটুট ভ্রাতৃত্ব: ববি-সানি ও এষা-অহনা
হেমা মালিনীর দুই মেয়ে এষা ও অহনা দেওলের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সানি ও ববির সম্পর্ক নিয়ে বলিপাড়ায় বরাবরই অনেক রহস্য ছিল। কিন্তু ববি দেওল স্পষ্ট করেছেন যে, বাবার মৃত্যু তাঁদের একে অপরের অনেক কাছে নিয়ে এসেছে। ববি বলেন, “সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। এই কঠিন সময়টা আমাদের বুঝিয়েছে যে একে অপরের পাশে থাকা কতটা জরুরি। আমরা এখন অনেক বেশি সচেতনভাবে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাই।”
২. বক্স অফিস নয়, পরিবারই অগ্রাধিকার
সাক্ষাৎকারে ববি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, এখন আর তাঁর কাছে বক্স অফিসের সাফল্য বা প্রশংসা বড় নয়। বাবার চলে যাওয়া তাঁকে শিখিয়েছে যে প্রিয়জনেরাই জীবনের আসল সম্পদ। ববি আক্ষেপের সুরে বলেন, “মনে হয় কেন বাবার সঙ্গে আরও একটু বেশি সময় কাটালাম না! কেন তাঁকে আরও অনেক প্রশ্ন করলাম না! আজও বাবার রিল ভিডিওগুলো দেখে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিই।”
৩. ধর্মেন্দ্রর শেষ স্মৃতি ও সম্মান
২০২৬-এর শুরুতেই ধর্মেন্দ্রর শেষ ছবি ‘ইক্কিস’ মুক্তি পেয়েছিল, যা সমালোচকদের বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। মরণোত্তর পদ্ম বিভূষণ সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। বাফটা (BAFTA)-তে তাঁকে সম্মান জানানো হলেও অস্কারের মঞ্চে তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ায় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও মুখ খুলেছেন অনুগামীরা। তবে শেষ পর্যন্ত অস্কার কর্তৃপক্ষ তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ধর্মেন্দ্র ও মনোজ কুমারের নাম সসম্মানে নথিভুক্ত করেছে।
৪. বদলে যাওয়া দেওল পরিবার
ববি-সানির সঙ্গে এষার সম্পর্ক এখন অনেক বেশি সহজ। বোন এষার বিবাহবিচ্ছেদের কঠিন সময়েও দাদারা ছায়ার মতো পাশে ছিলেন বলে খবর। সব মিলিয়ে ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ যেন তাঁর দুই পরিবারকে একটি ‘পারফেক্ট’ ইউনিটে পরিণত করেছে।





