বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এখন ঘোর অমানিশা। লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙনের সুর বেজেছিল, তা এখন মহাপ্রলয়ের রূপ নিয়েছে। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে তৃণমূলের একেবারে নিচুতলার কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ধাক্কার সম্মুখীন এখন শাসকদল।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, রাজ্যের ৬০ জন বিধায়কের পর এবার দিল্লিতে তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, এই ১৯ জন সাংসদ এখন নিজেদের নতুন রাজনৈতিক পথ খোঁজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজেদের দল টিকিয়ে রাখা যে অসম্ভব হয়ে পড়ছে, তা বুঝতে পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটেছেন। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস হাইকম্যান্ড, বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
এই রাজনৈতিক ডামাডোল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “আজ কেউ আর দিদির সঙ্গে থাকতে চাইছে না। সবাই বুঝতে পারছে যে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বিধায়ক থেকে সাংসদ—সবাই এখন দল ছাড়ার হিড়িক লাগিয়েছেন। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে দেখবেন শেষ পর্যন্ত ওই দুই একজন অনুগত মানুষ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আর কেউ থাকবে না।”
সুকান্ত মজুমদারের মতে, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনায়কতন্ত্রই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি আরও বলেন, মানুষ এবং দলের কর্মীরা এখন বিকল্প খুঁজছেন। যারা এতদিন মমতার ওপর ভরসা রেখেছিলেন, তারা এখন বুঝতে পারছেন যে তৃণমূলের দিন শেষ। তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙন শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমীকরণই বদলাচ্ছে না, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যকে পুরোপুরি ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই গণ-পদত্যাগ এবং নেত্রীর কংগ্রেসের দ্বারে দ্বারে ঘোরা প্রমাণ করে যে, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া কতখানি প্রবল। যদি ১৯ জন সাংসদ সত্যিই দল ছাড়েন, তবে তা তৃণমূলের জন্য হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কটাক্ষ, অন্যদিকে নিজের দলের নেতাদের বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এক গভীর রাজনৈতিক ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন দেখার বিষয়, দল পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতি সামলাতে পারেন, নাকি তৃণমূলের অস্তিত্ব মুছে যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।





