দীর্ঘ জল্পনা ও দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের পর অবশেষে হার মানল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। তাদের ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) পোর্টাল পরপর দু’বার হ্যাক হওয়ার পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে গুরুতর ত্রুটি ছিল, তা এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিল বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সুরক্ষায় গলদ ও বোর্ডের অবস্থান এতদিন এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও, সাইবার বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের চাপের মুখে পড়ে বোর্ড এক্স (টুইটার)-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সিবিএসই জানিয়েছে, তাদের থার্ড-পার্টি ওএসএম পোর্টালে যে সমস্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত ‘ভালনারেবিলিটি’ বা গলদ ছিল, তা তারা চিহ্নিত করেছে। আপাতত এই ত্রুটিগুলি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে বোর্ডের দাবি।
সিস্টেমকে সুরক্ষিত করার লড়াই তবে শুধু চিহ্নিত করাই নয়, সিস্টেমকে পুরোপুরি দুর্ভেদ্য করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে বোর্ড আশ্বস্ত করেছে। তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে:
নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি: চিহ্নিত ফাঁকফোকরগুলোর ওপর এখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
হ্যাকারদের মোকাবিলা: পোর্টালে অন্য কোনো সুপ্ত দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে কি না, যা হ্যাকাররা পরবর্তীতে হাতিয়ার করতে পারে, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে।
সম্পূর্ণ সুরক্ষা: পোর্টালটিকে হ্যাকারদের নাগালের বাইরে রাখতে সব ধরণের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে বোর্ড।
কেন এই বিতর্ক? অনলাইন খাতা দেখার এই ডিজিটাল পোর্টালটি দু’বার হ্যাক হওয়ার ফলে লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। অভিভাবক ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বোর্ডের এই স্বীকারোক্তি যে সেই আতঙ্কের বাতাবরণ কিছুটা হলেও কমাবে, তা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে, ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের মতো এত সংবেদনশীল বিষয়ে বোর্ডের এই ‘গলদ’ বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





