ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার আঁচ সরাসরি এসে পড়ছে দালান স্ট্রিটে। সেনসেক্স থেকে নিফটি— একের পর এক বড় পতনে নাজেহাল বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি নয়, বরং বুদ্ধি করে এই সময়েই সঠিক জায়গায় পুঁজি বিনিয়োগ করা উচিত। আপনার কাছে যদি এই মুহূর্তে ৫০,০০০ টাকা থাকে, তবে সেই টাকাকে কীভাবে সুরক্ষিত রেখে বড় লাভ করবেন, রইল তার গাইডলাইন।
১. এককালীন নয়, এসআইপি (SIP) মোডে ভরসা রাখুন
বাজার যখন অস্থির, তখন একবারে সব টাকা ঢালবেন না। আপনার হাতে থাকা ৫০ হাজার টাকাকে ৫-১০টি কিস্তিতে ভাগ করুন। আগামী কয়েক মাস ধরে অল্প অল্প করে ব্লু-চিপ ফান্ড বা ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করুন। এতে ‘রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং’-এর সুবিধা পাবেন, অর্থাৎ বাজার পড়লে আপনি বেশি ইউনিট কিনতে পারবেন।
২. ডিফেন্সিভ সেক্টরে নজর দিন (IT ও ফার্মা)
যুদ্ধের বাজারে যখন তেল বা ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে ধস নামে, তখন সাধারণত আইটি (IT) এবং ফার্মাসিউটিক্যালস (Pharma) সেক্টর কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। আপনার বিনিয়োগের একটি অংশ এই খাতের ভালো শেয়ারে রাখতে পারেন। মন্দার বাজারেও ওষুধের চাহিদা কিন্তু কমে না।
৩. সোনার ওপর হেজিং (Gold ETF/SGB)
ইতিহাস সাক্ষী, যখনই যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তখনই সোনার দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। আপনার ৫০ হাজার টাকার অন্তত ১০-১৫ শতাংশ সোনা বা গোল্ড ইটিএফ-এ (Gold ETF) রাখুন। শেয়ার বাজার যদি আরও পড়ে, তবে সোনার ক্রমবর্ধমান দাম আপনার পোর্টফোলিওকে ব্যালেন্স করবে।
৪. গুণমানসম্পন্ন (Blue-chip) শেয়ারে ফোকাস
বড় পতনের বাজারে অনেক সময় টাটা, রিলায়েন্স বা এইচডিএফসি-র মতো বড় কোম্পানির শেয়ার অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। ফাটকা বা পেনি স্টকের লোভ সামলে এই বড় মৌরলা মাছেদের দিকে নজর দিন। সংঘাত মিটে গেলেই এই শেয়ারগুলোই সবার আগে দৌড়াবে।





