২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’র মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের উপর ব্যাপক দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রায় ও বিচারকের পর্যবেক্ষণ
সোমবার ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক রায় ঘোষণার সময় একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন:
-
মানবতাবিরোধী অপরাধ: প্রধান বিচারক বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছেন।
-
সরাসরি নির্দেশ: বিচারক জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হাসিনা তাঁর ঘনিষ্ঠ শাকিলকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে ২২৬ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
-
সুপিরিয়র কমান্ড কন্ট্রোল: প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধানের উপর শেখ হাসিনার ‘সুপিরিয়র কমান্ড কন্ট্রোল’ ছিল।
-
যৌথ অপরাধ: বিচারক বলেন, শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধান যৌথভাবে দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
-
অস্ত্রের ব্যবহার: আন্দোলনে অস্ত্র, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে বলে বিচারক জানান।
-
উস্কানিমূলক ভাষণ: বিচারক হাসিনাকে অবিলম্বে ‘উস্কানিমূলক ভাষণ’ বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইনজীবীরা রায়ের সময় দাবি করেন, হাসিনার বিরুদ্ধে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। এরপরই আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
মৃত্যু ও জখমের পরিসংখ্যান
ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার সময় জুলাই ও আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে দমন-পীড়নে নিহত ও আহতদের একটি ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান প্রকাশ করে:
-
নিহত: প্রায় ১,৪০০ জন
-
আহত: প্রায় ২৪,০০০ জন
উল্লেখ্য, এর আগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছিলেন যে, তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে রায় এলে পরিস্থিতি সহিংস হতে পারে। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার আগে শেখ হাসিনা একটি অডিও বার্তায় বলেছিলেন, “আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন।”