পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এবার বড়সড় মোড়। ঘটনার গুরুত্ব এবং আন্তঃরাজ্য অপরাধ চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে তদন্তভার গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফেই এই মামলার স্বচ্ছ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিং-এর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবারই ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দলসহ সিবিআই আধিকারিকরা মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেন।
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে শ্যুটআউট: ৬ মে-র সেই অভিশপ্ত রাত
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি আটকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে তাঁকে খুন করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে আসা দুই শার্প শ্যুটারসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বর্তমানে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে সিবিআই-এর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল চক্রী এবং স্থানীয় স্তরে সুপারি দেওয়া ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা, যারা এখনও অধরা।
মাল্টি-স্টেট অপারেশন: সিবিআই-এর তুখোড় টিম
যেহেতু খুনিরা ভিন রাজ্যের এবং তাদের নেটওয়ার্ক একাধিক প্রদেশে বিস্তৃত, তাই সিবিআই এই তদন্তকারী দলে দিল্লি, পটনা, ধানবাদ, রাঁচি এবং লখনউয়ের অভিজ্ঞ আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিং-এর নেতৃত্বাধীন এই টিমটি বিশেষভাবে আন্তঃরাজ্য অপরাধ দমনে দক্ষ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই ছক কষা হয়েছিল।
নিসান মাইক্রা ও সিসিটিভি ফুটেজ: খুনের আগের ব্লু-প্রিন্ট
তদন্তে উঠে এসেছে যে, বিহারের বক্সার থেকে ধৃত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খুনের দিন অর্থাৎ ৬ মে বিকেল ৪টে ৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত গাড়িটি বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আততায়ীরা খুনের আগে দীর্ঘক্ষণ এলাকা রেইকি করেছিল। দুপুরের ফুটেজেও গাড়িটির গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে।
অপারেশন শেষে পলায়ন ও রহস্যময় স্কুটার
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ অপারেশন শেষ করে আততায়ীরা শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছায়। সেখান থেকে মধ্যরাতের ট্রেনে চেপে তারা উত্তরপ্রদেশের বালিয়া ও বিহারের বক্সারের দিকে রওনা দেয়। বিমানবন্দরের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার হওয়ায় সিবিআই খতিয়ে দেখছে কেউ বিমানে পালিয়েছে কি না। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত একটি রহস্যময় স্কুটারের খোঁজ এখনও মেলেনি। সিবিআই-এর প্রবেশের ফলে এখন এটাই দেখার যে, চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে থাকা আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে?





