বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর যখন চারদিকে জয়ের উল্লাস, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত পরাজয় নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে শাহের মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাহের নিশানায় মমতার দুর্গ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন অমিত শাহ। তিনি সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধে বলেন, “শুভেন্দুদা আপনার ঘরে ঢুকে আপনাকে হারিয়েছেন।” শাহের এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট— যে ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সবথেকে নিরাপদ দুর্গ বলে মনে করতেন, সেই দুর্গেই তাঁর পতন হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর হাতে।
শুভেন্দুর লড়াইকে কুর্নিশ অমিত শাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এবারের লড়াই কেবল দলের লড়াই ছিল না, এটি ছিল সাহসের লড়াই। তিনি দাবি করেন, নিজের খাসতালুকে হার মানা যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা। আর সেই অসাধ্য সাধন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শাহের মতে, শুভেন্দুর এই জয়ই প্রমাণ করে দেয় যে বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে এবং তাঁরা ঘরের কাছের নেতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর শাহের এই ‘ঘরে ঢুকে হারানো’র মন্তব্যের পর পালটা সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পরাজয় নিয়ে এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে। তবে বিজেপি শিবিরের পালটা যুক্তি, গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই শেষ কথা, আর মানুষ যখন তাঁদের ঘরের মেয়েকে প্রত্যাখ্যান করে শুভেন্দুকে বেছে নিয়েছেন, তখন সেই সত্যিটা স্বীকার করে নেওয়া উচিত।
তিলোত্তমায় উত্তাপ শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পর অমিত শাহের এই শাণিত আক্রমণ বিজেপির কর্মীদের মনে বাড়তি উদ্দীপনা জুগিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহের এই মন্তব্য আসলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক পরিকল্পিত কৌশল।
বাংলার মসনদে বদল এলেও, দুই শিবিরের এই কথার লড়াই যে এখনই থামছে না, তা অমিত শাহের এই মন্তব্যেই পরিষ্কার। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য নবান্নের এই ক্ষমতার পালাবদল এবং শাহ-মমতা দ্বৈরথ এখন সবথেকে ‘হট’ নিউজ।





