জাপানের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকাণ্ডের আড়াই বছর পর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল টোকিও আদালত। বুধবার নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট অপরাধী তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন নিজের তৈরি বন্দুক দিয়ে আবেকে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল এই ৪৫ বছরের যুবক।
কেন শিনজো আবেকে টার্গেট করেছিল তেতসুয়া? আদালতে ইয়ামাগামি স্বীকার করেছে যে, তার মূল ক্ষোভ ছিল বিতর্কিত ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এর ওপর। ইয়ামাগামির মা ওই চার্চে পরিবারের সমস্ত অর্থ অনুদান দিয়ে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। শৈশবের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই তেতসুয়াকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে। সে ভেবেছিল শিনজো আবে জাপানি রাজনীতিতে ওই চার্চের প্রভাব বজায় রাখতে সাহায্য করছেন। প্রথমে চার্চের কোনো বড় নেতাকে খুনের ছক কষলেও, পরে সে শিনজো আবেকেই নিশানা করে।
আদালতে নাটকীয় মোড় ও ক্ষমা প্রার্থনা মামলার শুনানিতে সরকারি আইনজীবীরা ফাঁসির আর্জি না জানালেও আবের পরিবার আজীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী ২০ বছরের সাজার দাবি তোলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ইয়ামাগামি শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে জানায়, পরিবারের প্রতি কোনো প্রতিহিংসা নেই তার। তবে দেশের বহু মানুষ, যারা চার্চ-বিরোধী, তারা তেতসুয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল বলেও জানা গিয়েছে।