পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ফের প্রকাশ্যে এল জঙ্গি ও রাষ্ট্রের গোপন আঁতাত। শুক্রবার পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং কুখ্যাত জঙ্গি কমান্ডার হামজা বুরহান ওরফে ‘ডাক্তার’-এর জানাজায় উপস্থিত ছিল হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন এবং আল-বদর প্রধান বখত জামিন খানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসবাদীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জানাজার এই সমাবেশে উপস্থিত ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় এই জঙ্গি কমান্ডার। মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরে একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে সে ছদ্মবেশে বসবাস করছিল। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ থেকে বেরোনোর সময় খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই জানাজার নামাজ ঘিরে যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে আল-বদর প্রধান বখত জামিন খানকে ঘিরে রাখা হয়েছিল একে-৪৭ ও অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিদের নিরাপত্তা বলয়। বিশ্লেষকদের মতে, পিওকে ও পাকিস্তানে সাম্প্রতিককালে জঙ্গিদের ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণের যে ঘটনা ঘটছে, তার জেরেই এই নিরাপত্তা আতঙ্ক। সন্ত্রাসবাদীরা এখন নিজেদের প্রাণভয়ে তটস্থ হয়ে রয়েছে।
২০১৯ সালের ভয়াবহ পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ানের শহিদ হওয়ার ঘটনায় অন্যতম চক্রী ছিল এই হামজা বুরহান। জম্মু ও কাশ্মীরের রতনিপোরার বাসিন্দা বুরহান অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায় এবং আল-বদর জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। ২০২২ সালে ভারত সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। পাকিস্তানে বসে সে আল-বদরের অর্থায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং কাশ্মীরের যুবকদের উগ্রবাদী করে তোলার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
যদিও স্থানীয় পুলিশ দাবি করেছে, এই খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে পালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। তবে এই খুনের ধরন দেখে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পিওকে-র মাটিতে একের পর এক জঙ্গি কমান্ডারদের এভাবে নিকেশ হওয়ার ঘটনা পাকাপাকিভাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের অন্দরমহলে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। আইএসআই-এর মদত থাকা সত্ত্বেও জঙ্গিরা যে এখন নিজেদের ডেরাতেই নিরাপদ নয়, তা বুরহানের মৃত্যু ও জানাজায় উপস্থিত নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকেই স্পষ্ট।





