ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই কোথায় আছেন? এই প্রশ্নটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক রহস্যের নাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিএস নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেই এখন লোকচক্ষুর পুরোপুরি অন্তরালে। এক অতি গোপন ডেরায় তিনি আত্মগোপন করে আছেন এবং বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই বললেই চলে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, খামেনেইর নাগাল পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কাছে বার্তা পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত জটিল এক ‘বার্তাবাহক নেটওয়ার্ক’ বা কুরিয়ার সিস্টেম। এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ইরানের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি আলোচনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আমেরিকা যখনই কোনো প্রস্তাব পাঠায়, তার উত্তর পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এই বিলম্বের মূল কারণ হলো সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কঠিন পথ।
সূত্রের খবর, তেহরান বা তার আশপাশের কোনো একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় মোজতবাকে রাখা হয়েছে, যেখানে পৌঁছানোর অনুমতি হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির ছাড়া আর কারো নেই। এমনকি ইরানের শীর্ষপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা নিজেও জানেন না যে তাদের নেতা ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন। প্রতিটি খবরাখবর বা তথ্য পৌঁছাতে যেমন দেরি হচ্ছে, তেমনি তাঁর কাছ থেকে আসা নির্দেশিকাগুলোও অনেক ক্ষেত্রে পুরনো বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কেন এই চরম গোপনীয়তা? এর পেছনে রয়েছে ইজরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দাদের হাত থেকে বাঁচার দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক। অতীতে যুদ্ধের আবহে মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দারা ইরানের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মতো হামলায় স্বয়ং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন এবং মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর থেকেই মোজতবা সতর্কতার চরম পর্যায় অবলম্বন করছেন। বাবার মতো একই পরিণতির হাত থেকে বাঁচতেই তিনি এখন জনসমক্ষে আসা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর নামে নিয়মিত বিবৃতি প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তিনি কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন, তা কেবল কিছু নির্দিষ্ট বিশ্বস্ত মহলেরই জানা। বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মোজতবার এই আত্মগোপন ইরান-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।





