রেললাইনে হাতির চলাচল নতুন কিছু নয়, বিশেষ করে জঙ্গলঘেরা অঞ্চলে। তবে ঝাড়খণ্ডে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা শুধু বিরল নয়— এক মানবিক উদাহরণও বটে। রেলের গতি থেমেছে জীবনের গতি বাঁচাতে। আর তার সাক্ষী থেকেছেন এক ট্রেনচালক।
ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। সময়— রাত ৩টা। বারকাকানা ও হাজারিবাগ স্টেশনের মাঝামাঝি একটি রেল ট্র্যাকে হঠাৎ উঠে আসে একটি গর্ভবতী হাতি। ওই সময়ই উলটো দিক থেকে আসছিল একটি মালগাড়ি।
জঙ্গলে টহল দেওয়া বনকর্মীরা দ্রুত বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। তাঁদের অনুরোধে মালগাড়িটি সময়মতো থামানো সম্ভব হয়। আর তাতেই রক্ষা পায় দুইটি প্রাণ—একটি মা হাতি, আর একটি নবজাত হস্তিশাবক।
বনদফতরের আধিকারিক নীতীশ কুমার বলেন,“এক ফরেস্ট গার্ড খবর দেন যে রেললাইনের উপর গর্ভবতী হাতিটি প্রসব যন্ত্রণায় কাতর। আমরা সঙ্গে সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষকে জানাই ও ওই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বলি।”
হাতিটি রেললাইনের উপর শুয়ে পড়ে, আর তখনই শুরু হয় তার সন্তান প্রসব। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ট্রেনটি অপেক্ষা করে, যতক্ষণ না মা হাতি তার নবজাত সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরে যায়।
Beyond the news of human-animal conflicts, happy to share this example of human-animal harmonious existence.
A train in Jharkhand waited for two hours as an elephant delivered her calf. The 📹 shows how the two later walked on happily.
Following a whole-of government approach,… pic.twitter.com/BloyChwHq0
— Bhupender Yadav (@byadavbjp) July 9, 2025
রেলের লোকো পাইলট এমন ঘটনার সম্মুখীন কখনও হননি। একদিকে প্রাণের ঝুঁকি, অন্যদিকে প্রকৃতির এক অলৌকিক মুহূর্ত— সেই অবস্থায় তাঁর ধৈর্য ও সংবেদনশীলতা প্রশংসার দাবিদার।
এমন ঘটনার ফলে কিছুক্ষণ রেল চলাচল বন্ধ থাকলেও, একটি নতুন জীবন পৃথিবীতে আসার জায়গা করে দিল রেল ব্যবস্থা।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো— উন্নয়ন ও প্রকৃতি পাশাপাশি চলতে পারে, যদি সদিচ্ছা ও সংবেদনশীলতা থাকে। বনকর্মী, রেল আধিকারিক এবং চালক সকলেই যেভাবে দ্রুত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়।





