ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া বা রেলের সম্পত্তি নষ্টের নিরিখে গোটা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিশেষ করে মালদহ জেলাকে ‘সবথেকে উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করল রেল মন্ত্রক। সম্প্রতি শামশেরগঞ্জ এবং বেলডাঙার অশান্তিতে যেভাবে রেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে রেলের বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রেল বোর্ড জানিয়েছে, গত এক-দেড় বছরে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলির ওপর হামলা অভাবনীয় হারে বেড়েছে।
রিপোর্টে মালদহের আতঙ্ক: পূর্ব রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এই জোনের অধীনে অন্তত ১৫০টি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মালদহ জেলার পরিস্থিতি সবথেকে ভয়াবহ। মালদহ থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং বন্দে ভারত স্লিপারের মতো প্রিমিয়াম ট্রেন যাতায়াত করে। বারবার এই ট্রেনগুলির জানলার কাঁচ লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হচ্ছে। পূর্ব রেলের শীর্ষকর্তাদের দাবি, মালদহ এবং পার্শ্ববর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে যে পরিমাণ হামলা হয়েছে, তা দেশের অন্য কোথাও দেখা যায়নি।
উদাসীন প্রশাসন, বাড়ছে ক্ষতি: রেল কর্তাদের অভিযোগ, এই বিষয়ে মালদহ জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারকে একাধিকবার জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ১৬৯৮টি পাথর ছোড়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার জেরে ৬৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর রেল এবং পূর্ব-মধ্য রেল শীর্ষে থাকলেও, পূর্ব রেলের অবস্থা দিনের পর দিন শোচনীয় হয়ে উঠছে। শামশেরগঞ্জ ও বেলডাঙার ঘটনায় রেলের সম্পত্তি ভাঙচুর ও পাথর বৃষ্টির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রেল বোর্ড।
নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তি: হামলা রুখতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই খড়্গপুর-হাওড়া ও খড়্গপুর-টাটানগর রুটে সৌরশক্তি চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পূর্ব রেলের বিভিন্ন ডিভিশনেও এই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। আরপিএফ-এর পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, রেল বোর্ডের কর্তারা মানছেন যে স্থানীয় পুলিশের কড়া হস্তক্ষেপ ছাড়া এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন। রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে ফের চিঠি পাঠিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।





