এ যেন এক অদ্ভুত রাজনৈতিক উলটপুরাণ! রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির মাঝেও কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন শিউলি সাহা। রেকর্ড ৫২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েও তিনি আজ নিজের এলাকাতেই ব্রাত্য। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযোগ উঠছে যে, কেশপুরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শিউলি সাহা তাঁর নিজের কেন্দ্রে পা রাখতে পারছেন না। এলাকার অলিগলিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউটের বদলে জায়গা করে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি খোদ বিধায়ককেও এলাকাছাড়া হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি মেদিনীপুরে গ্রামোন্নয়ন দফতরের একটি বৈঠকে যোগ দিতে এসে বিধায়ক শিউলি সাহা একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কেশপুরের বহু তৃণমূল কর্মী আতঙ্কে ঘরছাড়া। তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, এমনকি আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির কথা তিনি পুলিশ সুপার, জেলাশাসক, এমনকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। শিউলি সাহার আক্ষেপ, “আমি কেশপুরের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। তাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাই আমি তাঁদের জন্য কাজ করতে চাই। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাজ করব কীভাবে?”
তিনি আরও জানিয়েছেন, যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, সেই বাড়িওয়ালার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে তাঁকে বের করে দেওয়ার জন্য। তাঁর ফ্লেক্স ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। সরাসরি হুমকি না পেলেও পরোক্ষভাবে তাঁকে এলাকা ছাড়া করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিধায়কের। শিউলি সাহার কথায়, “অন্যান্য বিধায়করা যেভাবে এলাকায় কাজ করছেন, আমিও তেমনটাই চাই। প্রশাসন যেন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে এবং আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।”
উল্লেখ্য, কেশপুর বরাবরই রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যতিক্রমী। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের জয়ী হওয়া পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত কেশপুর অতীতে সাংসদ দেবকে জেতানোর জন্য ১ লক্ষ ভোটের লিডও দিয়েছিল। এবারও শিউলি সাহা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্তকে বিপুল ভোটে হারিয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। কিন্তু জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে বর্তমান পরিস্থিতির জেরে। প্রাক্তন মন্ত্রী হওয়ার পর এবার বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েও নিজের এলাকায় কাজ করতে না পারার এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতির আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয় এবং শিউলি সাহা কবে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ফিরে গিয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন।





