রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে দিল্লি সফর ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিন দিনের সফর শেষে বুধবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফিরলেও, দিল্লিতেই রয়ে গিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সফরকে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নানা জল্পনা ডানা মেলছে।
রাহুল-অভিষেক ৯০ মিনিটের বৈঠক দিল্লিতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। INDIA ব্লকের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং বিরোধী জোটের সমন্বয় কীভাবে হবে—মূলত এই বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে সূত্রের খবর। তবে তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান বিদ্রোহ ও শোচনীয় পরিস্থিতির মোকাবিলায় কোনো বিশেষ পরিকল্পনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। অভিষেক এখনও কেন দিল্লিতে থাকলেন এবং কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা এখনও মেলেনি।
সিআইডি (CID) সমন ও চাপ বাড়ল অভিষেকের ওপর বিধানসভায় ‘ভুয়ো সই’ মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি মোট তিনটি সমন পাঠিয়েছে। প্রতিবারই তিনি ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও দিল্লি সফরের কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল সরাসরি অভিষেকের বাসভবনের ঠিকানায় থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছে। আইনি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর এই দীর্ঘ দিল্লি সফর রাজনৈতিক মহলে বাড়তি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মমতার ‘ঘরওয়াপসি’র গুঞ্জন অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর একান্ত বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। বর্তমান দলের চরম দুর্দিনে তিনি কি তবে ফের পুরনো দল কংগ্রেসের ‘হাত’ শক্ত করতে চাইছেন? যদিও তৃণমূল বা কংগ্রেস—কোনো পক্ষ থেকেই এই জল্পনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলে ‘ঘরওয়াপসি’র এই চর্চা এখন অন্যতম ‘হট টপিক’।
তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহের মাঝে মমতা ও অভিষেকের এই পৃথক অবস্থান রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর সব মহলের।
তৃণমূলের এই সংকটজনক পরিস্থিতি কি শেষ পর্যন্ত দল ভাঙনের দিকেই নিয়ে যাবে? আপনার কী অভিমত? আমাদের জানান কমেন্ট বক্সে।





