প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলার মাটি থেকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’ (I.N.D.I.A.)-কে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার উত্তরবঙ্গের একটি জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে বিঁধলেন তিনি। শাহর অভিযোগ, তোষণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূল দেশের সুরক্ষার সঙ্গে আপস করছে এবং ‘জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছে’।
খাড়গেকে নিয়ে শাহর বিশেষ মন্তব্য: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, “খাড়গেজি একজন প্রবীণ নেতা, কিন্তু রাহুল গান্ধীর সঙ্গে থাকতে থাকতে তাঁরও মতিভ্রম হয়েছে। তিনি বলছেন কাশ্মীর নিয়ে রাজস্থান বা বাংলার মানুষের কী কাজ? তিনি কি জানেন না ভারতের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে কাশ্মীর রয়েছে?”
‘বিরিয়ানি’ কটাক্ষ ও তোষণের রাজনীতি: অমিত শাহ তাঁর ভাষণে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পূর্বতন ইউপিএ সরকার এবং বর্তমান তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন:
জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব: “যখন দেশের জওয়ানরা সীমান্তে প্রাণ দিচ্ছেন, তখন কংগ্রেস ও তৃণমূল ভোটব্যাঙ্কের খাতিরে জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব দেখায়। এদের জমানায় জঙ্গিদের সাজা দেওয়ার বদলে বিরিয়ানি খাওয়ানো হতো।”
পাহলগাম প্রসঙ্গের রেশ: সম্প্রতি কাশ্মীরের পাহলগামে পর্যটকদের ওপর হওয়া জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, মোদী সরকার এই অপমানের বদলা নিতে জানে। অথচ বিরোধীরা সন্ত্রাসবাদীদের ‘ভুল পথে চালিত যুবক’ বলে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূলকে আক্রমণ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শাহ বলেন, “বাংলায় তৃণমূলের জমানায় অনুপ্রবেশকারীরাই ভগবান হয়ে উঠেছে। ডুয়ার্স থেকে সুন্দরবন— সর্বত্র এরা তুষ্টিকরণ চালাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, মোদীজি থাকতে ভারতের এক ইঞ্চি জমিও অসুরক্ষিত থাকবে না।”
বিজেপির সংকল্প: শাহর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই সন্ত্রাসবাদের সমূলে বিনাশ। এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এক নজরে: প্রথম দফার ভোটের আগে জাতীয় নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় মেরুকরণকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের কার্যত ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন অমিত শাহ। তাঁর ‘বিরিয়ানি’ মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল ও কংগ্রেস।





