দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় কৃষির সাফল্যের মূলে রয়েছে নিবিড় উৎপাদনশীলতা। কিন্তু এই অগ্রগতির সমান্তরালে আমরা মাটির মতো মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের স্বাস্থ্যকে চরম সঙ্কটে ফেলে দিয়েছি। আজ যখন আমরা জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন শুধু ‘আরও বেশি ফলন’ পাওয়ার লক্ষ্যে রাসায়নিক সারের লাগামহীন ব্যবহার আমাদের কঠোর মূল্য দিতে বাধ্য করছে। ভারতের দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন ‘সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা’ বা Integrated Nutrient Management (INM), যা আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে প্রথাগত জ্ঞানের এক অনন্য মেলবন্ধন।
বর্তমানে চাষের জমি সালফার, জিঙ্ক এবং বোরনের মতো ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদানের জন্য পুরোপুরি কৃত্রিম উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখায় আইএনএম (INM)। এটি আধুনিক রাসায়নিক সারকে পুরোপুরি বর্জন করতে বলে না, বরং বিচক্ষণতার সঙ্গে জৈব ও প্রাকৃতিক উৎসের সমন্বয় ঘটানোর পরামর্শ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনভিত্তিক সারের সঠিক প্রয়োগ, ভার্মি কম্পোস্টের মতো জৈব সারের ব্যবহার এবং রাইজোবিয়াম ও অ্যাজোটোব্যাক্টরের মতো উপকারী অণুজীবের প্রয়োগ। ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে না ফেলে তা মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়া এই পদ্ধতির অন্যতম স্তম্ভ।
আইএনএম মূলত মাটির প্রাকৃতিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক—এই তিন ভিত্তির উন্নতি ঘটায়। এটি মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তাকে স্পঞ্জের মতো করে তোলে এবং উপকারী অণুজীব ও কেঁচোর সংখ্যা বাড়িয়ে মাটিকে ‘জীবন্ত’ রাখে। এই ব্যবস্থা পরিবেশ দূষণ এবং গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ কমিয়ে ভারতের জাতীয় অগ্রাধিকারকে মজবুত করে। মাটিকে জড় পদার্থ নয়, জীবন্ত ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করলেই আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা এক সুস্থায়ী কৃষি ব্যবস্থা রেখে যেতে পারব।