রাম-সীতার বেশে মিছিল, আকাশছোঁয়া ভিড়! মোদীর ঠাকুরনগর সফর কি বদলে দেবে বাংলার ভোটের অঙ্ক?

ভোটের বাংলায় এবার ‘অহঙ্কার’ বনাম ‘অধিকার’-এর লড়াই! উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়াদের মহাতীর্থে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম দফার নির্বাচনের ট্রেন্ড উল্লেখ করে মোদীর দাবি— শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল, চুরমার হয়ে গিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের দম্ভ।

মতুয়া গড়ে মোদীর ‘বিজয় সংকল্প’
রবিবার ঠাকুরনগরের সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কোনওভাবেই এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। প্রথম দফার ভোট মিটতেই আত্মবিশ্বাসী মোদী বলেন:

“প্রথম দফার ভোটেই বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা কী চান। তৃণমূলের যে অহঙ্কার ছিল, তা শুরুতেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন ভয়মুক্ত হয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছেন।”

রাম-সীতার সাজে বর্ণাঢ্য মিছিল
এদিনের সভাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরনগর চত্বরে কার্যত উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়েছিল। মোদীকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। নজর কেড়েছে দলের কর্মী-সমর্থকদের অভিনব সাজ; রাম, সীতা ও হনুমানের বেশে মিছিলে সামিল হয়ে তাঁরা বিজেপির সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বার্টাকেই সামনে এনেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভিড় কেবল প্রচার নয়, বরং মতুয়া গড়ে বিজেপির নিটোল শক্তিপ্রদর্শন।

নিশানায় সিএএ ও এসআইআর বিতর্ক
মতুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি নাগরিকত্ব। এদিনের সভা থেকে সিএএ (CAA) কার্যকর করা এবং সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন মোদী। তিনি আশ্বাস দেন, মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও অধিকার সুনিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্র ও রাজ্যের লড়াইয়ে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক যে এবার বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, মোদীর ভাষণে তা ছিল স্পষ্ট।

‘কার্পেট বম্বিং’ কৌশলে বিজেপি
শেষ দফার আগে বাংলায় ‘কার্পেট বম্বিং’ শুরু করেছে পদ্ম শিবির। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী— একের পর এক হাই-ভোল্টেজ সভা ও রোড-শো’র মাধ্যমে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। মোদীর দাবি অনুযায়ী প্রথম দফার সেই ‘ধাক্কা’ তৃণমূল কতটা সামলে উঠতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy