প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনীতিকে মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করছে বিহারের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শান্তি অধ্যয়ন (IRPS) কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রামায়ণ, মহাভারত ও প্রাচীন দর্শনের আলোকে আজকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ খুঁজছেন। উপাচার্য শচীন চতুর্বেদীর তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগটি কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বাস্তব সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি হয়ে উঠছে।
গবেষণায় উঠে আসছে চমকপ্রদ সব তত্ত্ব। ছাত্রী সুরভি রানীর গবেষণাপত্রে রাম ও সুগ্রীবের সম্পর্ককে আধুনিক কূটনীতির ‘আদর্শ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা বর্তমানের পারস্পরিক আস্থার রাজনীতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। অন্যদিকে, প্রীতি কুমারী মহাভারতের কৃষ্ণ-দর্শনকে আন্তর্জাতিক আইন ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। শুধু কূটনীতি নয়, হিমাংশী গুপ্তার গবেষণায় বিহারের ‘আহার-পাইন’ জল ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মডেলও বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন ‘শাস্ত্রার্থ’ বা প্রাচীন বিতর্কের ঐতিহ্যকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। যেখানে পাশ্চাত্য বিতর্ক জয়-পরাজয়ের মানসিকতায় চলে, সেখানে ভারতীয় ‘শাস্ত্রার্থ’ সম্মিলিত জ্ঞানচর্চায় বিশ্বাসী। নালন্দার এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে, বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তি ফেরাতে ভারতীয় মহাকাব্যগুলো কেবল ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির এক কার্যকর পাঠ্যপুস্তক হতে পারে।





