গ্রামীণ ভারতের অন্ধকার রান্নাঘর থেকে নীল আগুনের শিখায় উত্তরণ—এই দীর্ঘ যাত্রার নাম ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’। দেখতে দেখতে সফলভাবে দশটি বছর পূর্ণ করল কেন্দ্রীয় সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। ২০১৬ সালের ১ মে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন, আজ তা ভারতের কোটি কোটি মহিলার জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার এক মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
একটা সময় ছিল যখন গ্রামবাংলার অধিকাংশ ঘরেই কাঠের জ্বালানি বা ঘুঁটের উনুনে রান্না হতো। সেই ধোঁয়ায় কেবল চোখের জলই পড়ত না, বরং হাজারো মহিলার ফুসফুস আক্রান্ত হতো মারাত্মক সব রোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়ায় রান্না করা দিনে কয়েকশো সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর ছিল। উজ্জ্বলা যোজনা সেই অভিশপ্ত অধ্যায়ের ইতি ঘটিয়েছে।
পরিসংখ্যানে সাফল্যের ছবি: গত এক দশকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মহিলাকে বিনামূল্যে এলপিজি (LPG) সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতের রান্নাঘরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের হার এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল কেবল সিলিন্ডার দেওয়া নয়, বরং মহিলাদের জন্য একটি ধোঁয়ামুক্ত এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।
আর্থ-সামাজিক প্রভাব: উজ্জ্বলা যোজনা কেবল স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। কাঠ কুড়োনোর দীর্ঘ সময় এখন মহিলারা অন্য কোনো উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করতে পারছেন। এছাড়া ভর্তুকি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পৌঁছে যাওয়ায় দুর্নীতির সুযোগও বন্ধ হয়েছে। প্রকল্পের দশম বর্ষপূর্তিতে বিভিন্ন এলাকায় সফল উপভোক্তাদের সাফল্যগাথা তুলে ধরছে প্রশাসন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: দশ বছর পূর্ণ হলেও সরকারের লক্ষ্য এখনও অটুট। এখনও যেসব পরিবার এই সুবিধার বাইরে রয়েছে, তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ‘উজ্জ্বলা ২.০’ ভার্সনও চালু করা হয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে কিছু অভিযোগ থাকলেও, সামগ্রিকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই প্রকল্পকে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক দশকের এই সাফল্য উৎসব কেবল একটি সরকারি উদ্যাপন নয়, বরং এটি ভারতের কোটি কোটি গৃহবধূর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার গল্প।





