মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বারুদের গন্ধ এখন ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পৌঁছে গিয়েছে। ইজরায়েল-আমেরিকা বনাম ইরান সংঘাতের অষ্টম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ল জ্বালানির বাজারে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) দাম একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা-সহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সিলিন্ডার পিছু ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
কেন মহার্ঘ্য হল রান্নার গ্যাস?
ইন্ডিয়ান অয়েল-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার থেকেই নতুন এই বর্ধিত দাম কার্যকর করা হচ্ছে।
ঘরোয়া সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি): দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। দিল্লিতে ৮৫৩ টাকা থেকে বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ৯১৩ টাকা। কলকাতায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও তীব্র।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডার (১৯ কেজি): একধাক্কায় ১১৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে খাবারের দোকানের খরচও বাড়তে চলেছে।
লক্ষ্য এবার পেট্রোল-ডিজেল? ঘনীভূত হচ্ছে আশঙ্কা
গ্যাসের দাম বাড়তেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি এবার জ্বালানি তেলের দামও আকাশছোঁয়া হতে চলেছে? এর পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইরান ও ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশই এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
ভারত তার চাহিদার সিংহভাগ তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান কমলে ভারতেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
৮ দিনে অপরিশোধিত তেলের অবিশ্বাস্য উল্লম্ফন
পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি WTI ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে ৭ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে তা ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। পিছিয়ে নেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলও, যার বর্তমান দাম ব্যারেল প্রতি ৯২.৬৯ ডলার। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই দাম বৃদ্ধি ভারতের বাজারে শীঘ্রই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সরকারের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি
যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি কি কেবল শুরু? যুদ্ধের এই দাবানল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান দেয়, এখন সেটাই দেখার।