দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক আগে খাস কলকাতায় বড়সড় উত্তেজনা। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের চেতলার বাড়ির সামনে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয়। মাঝরাতে বাহিনীর এই সক্রিয়তা এবং মেয়রের সঙ্গে জওয়ানদের বাদানুবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ, রাত তখন প্রায় পৌনে ১টা। সেই সময় আচমকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তার বাড়ির সামনে উপস্থিত হন। শুধু তাই নয়, তাকে কার্যত রাস্তায় ডেকে এনে ‘হুমকি’ বা থ্রেট করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। মেয়রের কথায়, “আমাকে বলছে কিছু হলে মুশকিলে পড়বে। আরে ভাই, এখানে মধ্যবিত্ত বাঙালি থাকে। এখানে কোনো ঝামেলা নেই। আমাকে কী মুশকিলে ফেলবে?”
“তোমাদের আয়ু ৪ তারিখ পর্যন্ত!” বাহিনীর আচরণে ক্ষুব্ধ ফিরহাদ হাকিম সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “তোমাদের আয়ু ৪ জুন (ভোটগণনার দিন) পর্যন্ত। আমাদের পাড়ায় হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ইশাই সবাই মিলেমিশে থাকে। যারা ভেবেছিল বিজেপিকে ভোট দেবে, জওয়ানদের এই ব্যবহার দেখে তারাও এখন রেগে গিয়ে আমাদের দিকে ঘুরে গেছে।” মেয়রের দাবি, তাকে হেনস্থা করতে গিয়ে আসলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক আরও শক্ত করে দিচ্ছে বাহিনী।
এলাকায় ক্ষোভের আগুন: মাঝরাতে প্রিয় নেতাকে ঘিরে বাহিনীর এই তৎপরতা দেখে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুটিন টহলের অংশ হিসেবেই তারা এলাকায় গিয়েছিলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে নিশানা করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ভোটের মুখে মেয়রের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই পরিদর্শন নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিজের কাজ করছে, এতে ভয় পাওয়ার কী আছে? সব মিলিয়ে ৪ মে-র আগে কলকাতার বুকে এই ‘মাঝরাতের নাটক’ রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে গরম করে তুলেছে।





