২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর টানটান উত্তেজনার পর এবার বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল শিবির। স্ট্রংরুমে ‘কারচুপি’ ও ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’র অভিযোগ তুলে শুক্রবার কালিঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটের বৈঠকে কড়া বার্তা সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে দলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত স্ট্রংরুমের বাইরে থেকে নজরদারি সরানো যাবে না। যেকোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে কমিশনে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ডিজিটাল মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন।
কেন হঠাৎ এই শঙ্কা? বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে শুরু করে যাদবপুরের মতো একাধিক কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের বাইরে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শাসক দলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে কিছু ‘অস্বাভাবিক’ কাজ চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এই দাবি নস্যাৎ করে জানিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে।
নিরাপত্তায় লোহার বেষ্টনী উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কলকাতার সাতটি স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। জমায়েত ও বিক্ষোভের ওপর রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। ইভিএম-এর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
স্ট্রংরুমের চারপাশে সিটে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলিকে আলাদা করে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করে নজরদারির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বেআইনি জমায়েত রুখতে সাতটি বড় কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ পিকেট বসানো হয়েছে।
আগামী ৪ মে ভোট গণনা। তার আগে ইভিএম-এর নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে নারাজ শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই। ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত তিলোত্তমা এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, যেখানে নজরদারির সূক্ষ্ম ভুলে বদলে যেতে পারে রাজনীতির সমীকরণ।





