রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পোয়াবারো! সপ্তম পে কমিশন চালু হলে পকেটে ঢুকবে মোটা টাকা, কিন্তু নবান্নের ভাঁড়ার ফাঁকা?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালু করা। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন ইতিমধ্যেই পরবর্তী বেতন কমিশনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন, তখন বাংলার সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশ এখনও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ (Dearness Allowance) এবং সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড়। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে এই পে কমিশন চালুর চর্চা শুরু হতেই উঠে আসছে এক ভিন্ন পরিসংখ্যান। প্রশ্ন উঠছে, এই দাবি পূরণ হলে কর্মচারীদের বেতন ঠিক কতটা বাড়বে এবং ইতিমধ্যে বিপুল ঋণের ধাক্কায় ধুঁকতে থাকা রাজ্যের রাজকোষের ওপর এর কতটা প্রভাব পড়বে?

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসেব অনুযায়ী, যদি রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন পুরোপুরি কার্যকর করা হয়, তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিক স্যালারিতে এক ধাক্কায় বড়সড় লাফ দেখা যাবে। সাধারণত পে কমিশনের নিয়ম মেনে একটি নির্দিষ্ট ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) ব্যবহার করে নতুন পে ম্যাট্রিক্স তৈরি হয়। এর ফলে সর্বনিম্ন স্তরের কর্মচারীদের থেকে শুরু করে শীর্ষ আমলাদের বেতন এক ধাক্কায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংশোধিত বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং মহার্ঘ ভাতা (DA)। স্বাভাবিকভাবেই, মাসের শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের বেতন ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ লাখ কর্মচারী ও পেনশনার।

কিন্তু মুদ্রার ওপিঠ বলছে অন্য কথা। কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটলেও, নবান্নের অর্থ দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। প্রতি বছরই এই ঋণের সুদ এবং আসল মেটাতেই রাজ্যের আয়ের একটা বিরাট অংশ খরচ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা সম্প্রতি চালু হওয়া ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের মতো একাধিক বড় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প সচল রাখতে সরকারকে প্রতি মাসে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যদি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করতে হয়, তবে রাজ্যের কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বেতন ও পেনশন মেটাতে প্রতি বছর আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত সংস্থান করতে হবে সরকারকে। আর সেই বিপুল অর্থের যোগান দিতে গেলে রাজ্যকে হয়তো বাজার থেকে আরও নতুন করে ঋণ নিতে হবে, অথবা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের বাজেটে কাটছাঁট করতে হতে পারে। ফলে একদিকে কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনার দাবি, আর অন্যদিকে রাজকোষের বাস্তব পরিস্থিতি—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা আগামী দিনে নবান্নের জন্য যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy