পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও শিল্প মহলে জল্পনার পারদ তুঙ্গে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাসখানেকের মধ্যেই নবান্নে আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির আগমন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে করণের এই বৈঠক কি তবে বাংলায় বড় কোনো শিল্প বিনিয়োগের ইঙ্গিত?
নবান্নে কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু? মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে এই বৈঠকটিকে ‘সৌজন্যমূলক’ আখ্যা দেওয়া হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল। সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে আদানি গোষ্ঠীকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কথা মনে করিয়ে দিয়ে অনেকেরই ধারণা, সরকার পরিবর্তনের ৬ মাসের মধ্যেই হয়তো বড় কোনো শিল্প উদ্যোগের ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য।
পুরানো প্রতিশ্রুতি, নতুন সম্ভাবনা ২০২২ সালে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে (BGBS) আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি পশ্চিমবঙ্গে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যার মধ্যে বন্দর পরিকাঠামো, ডেটা সেন্টার, আন্ডারসি কেবল, ও লজিস্টিক পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর বন্দর প্রকল্প নিয়ে আগের সরকারের আমল থেকে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে পালাবদলের পর আদানি গোষ্ঠী কি সেই প্রকল্প বা নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ফের সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
কেন এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ? আদানি গোষ্ঠী বর্তমান সময়ে দেশের রাস্তা নির্মাণ, বিমানবন্দর পরিচালনা, বিদ্যুৎ এবং সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। রাজ্যের পরিকাঠামো খাতের আধুনিকীকরণে বিজেপি সরকারের কাছে আদানিরা যে এক অন্যতম কৌশলগত অংশীদার হতে পারে, এই বৈঠক সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করল।
আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও না এলেও, নবান্ন ও আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যের শিল্প মহলে নতুন আশায় বুক বাঁধছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বাংলায় শিল্প ফিরবে কি? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





