লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের জন্য আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন। তার আগেই বাংলায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ১৮ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যেই নির্দিষ্ট জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুথ থেকে বুথ— সর্বত্র কড়া নজরদারি চালিয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই এখন কমিশনের পাখির চোখ।
কোথায় কত বাহিনী? একনজরে ডিস্ট্রিবিউশন:
প্রথম দফায় বাংলার তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এই কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তার কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। জেলাভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনাটি হলো:
কোচবিহার: প্রথম দফার ভোটের সবথেকে স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে থাকছে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাহিনী।
আলিপুরদুয়ার: হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে জঙ্গল এবং চা-বাগান এলাকার বুথগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি দল।
জলপাইগুড়ি: এই জেলায় প্রতিটি বুথেই থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ান।
কমিশনের নির্দেশ: আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে নির্দিষ্ট বুথ এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বাহিনীর পজিশন নেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। যাতে ভোটের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই রুট মার্চ করে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগানো যায়।
নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গতবারের চেয়েও কড়া: ১. ১০০% বুথ কভারেজ: প্রতিটি বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাজ্য পুলিশ কেবল বুথের বাইরে ভিড় সামলানোর কাজ করবে। ২. রুট মার্চ: বাহিনীর জওয়ানরা ২০ এপ্রিলের আগে থেকেই এলাকার অলিগলিতে টহল দেবেন। ৩. কুইক রেসপন্স টিম (QRT): কোনো অশান্তির খবর পেলে ৩-৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম।
কেন এই কড়াকড়ি?
বিগত নির্বাচনগুলোতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। তাই এবার প্রথম দফা থেকেই বিরোধীদের আস্থা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কমিশন। ১৮ তারিখ থেকেই ধাপে ধাপে বাহিনী নিজের নিজের অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করবে।
ভোটের এই মহাসংগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি জনমত এবং ভোটদানের হারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





