রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না—এই প্রবাদটিই কি সত্যি হতে চলেছে রাঘব চাড্ডার ক্ষেত্রে? বুধবার আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পঞ্জাবের আপ সরকার তাঁর Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন নিরাপত্তা কাড়ল পঞ্জাব সরকার?
পম্পা অধিকারী সিং-এর রিপোর্ট ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাঘবের দূরত্ব বাড়ছিল।
পদ খোয়ানো: গত ৩ এপ্রিল রাজ্যসভায় আপ-এর উপ-দলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
দলের অভিযোগ: দলের একাংশের (সৌরভ ভরদ্বাজসহ) অভিযোগ, রাঘব ইদানীং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতি ‘নরম’ মনোভাব দেখাচ্ছেন এবং কেবল ‘সফট পিআর’ করছেন। এমনকি তাঁকে ‘ওয়াশিং মেশিনে’ ধোয়া হয়েছে বলেও বিদ্রুপ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রত্যাহার: আজ সকালে পঞ্জাব পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় রাঘবের নিরাপত্তা বলয় থেকে অবিলম্বে সরে এসে হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট করতে।
অমিত শাহের মন্ত্রকের ‘তৎপরতা’
পঞ্জাব সরকার হাত তুলে নিতেই ময়দানে নামে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে রাঘব চাড্ডার ওপর প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে—এই যুক্তিতে তাঁকে বিশেষ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁকে দিল্লিতে ‘Z’ ক্যাটাগরি এবং দেশের বাকি অংশে ‘Y’ ক্যাটাগরির সুরক্ষা দেওয়া হতে পারে।
বিজেপিতে যাওয়া কি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?
রাঘবকে কেন্দ্রের এই বিশেষ ‘দয়া’ দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি শীঘ্রই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন তিনি?
আতিশির মন্তব্য: দিল্লির মন্ত্রী আতিশি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাঘব চাড্ডা সম্ভবত মোদীজির ছায়ায় আশ্রয় নিতে চলেছেন।
রাঘবের প্রতিক্রিয়া: রাঘব এই সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “আমাকে চুপ করানো যেতে পারে, কিন্তু হারানো যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ: পঞ্জাব সরকার এবং আপ-এর সাথে রাঘবের যে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে, তাতে কেন্দ্রের এই নিরাপত্তা প্রদান আদতে রাঘবকে বিজেপির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।





