রাজধানী রাঁচিতে পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে রাঁচির লালপুর এলাকায় এক রেস্তোরাঁ মালিকের রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেলের ভেতরে অন্তঃসত্ত্বা কয়েদির ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাঁচির লালপুর এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ৩৮ বছর বয়সি মালিক অভিমন্যু ভাটিয়া, যিনি এলাকায় ‘লাভ’ নামেই পরিচিত ছিলেন, তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিষাক্ত কিছু খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও রহস্যের আড়ালে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাঁচি পুলিশ।
অন্যদিকে, রাঁচির বিরসা মুন্ডা সেন্ট্রাল জেলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক রীতিমতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে দাবি করেছেন যে, বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক অন্তঃসত্ত্বা কয়েদিকে বারবার যৌন হেনস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি এখানেই শেষ নয়, মারান্ডির অভিযোগ, ওই ঘটনা সামনে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ মারান্ডি লিখেছেন, “এই ঘটনা গোটা ঝাড়খণ্ডকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।”
মারান্ডির দাবি, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, চিকিৎসার নাম করে ওই নির্যাতিতা কয়েদিকে গোপন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে ফরেনসিক এবং বায়োলজিক্যাল প্রমাণ মুছে ফেলা যায়। এই ঘটনায় কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের (আইজি) বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তাঁকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহদেও এই ঘটনাকে ‘জেলখানার ভেতরে কালো কারবার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, হাই-সিকিউরিটি জেলের ভেতরে কী করে এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়? শাহদেও জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনের ওপর তাঁদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তিনি হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারকের অধীনে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন। ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেনকেও এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে। জেল প্রশাসনের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে। সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডে এখন ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।





