সীমান্তে শত্রুপক্ষের মোকাবিলায় এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়তে চলেছে। দেশের প্রধান দুই যুদ্ধট্যাঙ্ক— টি-৭২ (T-72) এবং টি-৯০ (T-90)-এর জন্য এক মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে প্রায় ৯৭৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কেন এই চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোর বা ট্যাঙ্ক বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং নিখুঁত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায়:
নিখুঁত নিশানায় অস্ত্র (Precision Weapons): ট্যাঙ্কগুলোতে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে।
নাইট ভিশন ও সেন্সর: রাতের অন্ধকারেও যাতে শত্রুর অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা যায়, তার জন্য উন্নত থার্মাল ইমেজার এবং আধুনিক সেন্সর লাগানো হবে।
আত্মনির্ভর ভারত: এই চুক্তির একটি বড় অংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পকে আরও মজবুত করবে।
শত্রু শিবিরে ত্রাস: বিশেষজ্ঞদের মতে, লাদাখ বা অরুণাচল সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় যেখানে টি-৭২ এবং টি-৯০ ট্যাঙ্ক মোতায়েন রয়েছে, সেখানে এই আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন এই সিস্টেম যুক্ত হওয়ার ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া বা দুর্গম এলাকাতেও ভারতীয় ট্যাঙ্কগুলো হবে আরও ক্ষিপ্র এবং প্রাণঘাতী। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে সেনার এই শক্তিবৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কবে আসবে এই প্রযুক্তি? চুক্তি স্বাক্ষরের পর দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীর সমস্ত ফ্রন্টলাইন ট্যাঙ্কে এই নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
এক নজরে: ৯৭৫ কোটির এই ‘বুস্টার ডোজ’ ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করবে।





