রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হয়েছে নতুন সরকার। সম্প্রতি বিজেপি সরকার ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’ চালু করার ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান করা। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য বেকাররা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মেধাবী পড়ুয়াদের এককালীন ১৫,০০০ টাকা অনুদান দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই টাকা কোনো ঋণ বা লোন নয়, বরং এটি সরাসরি সরকারি অনুদান হিসেবে গণ্য হবে।
প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে জানতে চাইছেন, কবে থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে? যারা আগে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের কী নতুন করে আবেদন করতে হবে? এই বিষয়ে সরকারি স্তরে এখনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলেও, সূত্র মারফত বড় আপডেট পাওয়া গেছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পুরনো ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের প্রায় ৫৫ লক্ষ উপভোক্তার তথ্য নতুন করে যাচাই করা হবে। সরকারি কোষাগারের সঠিক ব্যবহারের জন্য তথ্যের পুনর্যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দুইবার টাকা না ঢোকে বা কোনো অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা না পায়।
উল্লেখ্য, প্রতি মাসে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হতো। পালাবদলের পর এই মুহূর্তে নতুন সরকারের তরফ থেকে বেকার ভাতার টাকা ছাড়া হয়নি। অর্থাৎ, তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এই সহায়তা বন্ধ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আগের সরকারের আমলের তথ্যভাণ্ডার নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নতুন ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’ পেতে গেলে বেকার যুবক-যুবতীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই দ্রুত জানানো হবে কোথায় ও কীভাবে এই আবেদন জমা দিতে হবে। আপাতত রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের সরকারি নির্দেশনার জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। যারা শিক্ষিত অথচ কর্মহীন, তাদের জন্য এই প্রকল্প একটি বিশেষ ভরসা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে প্রশাসন। সঠিক নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই এই অনুদান বন্টন করা হবে, যাতে প্রকৃত মেধাবীরাই এর সুফল পান। বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকার জন্য রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় প্রশাসনের নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





