যুদ্ধ মিটতেই ভোলবদল! আতঙ্ক কাটিয়ে এখন সিলিন্ডার নিতে নারাজ আমজনতা, বিপাকে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা

মাস খানেক আগের আতঙ্ক এখন উধাও। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে যখন বিশ্বজুড়ে এলপিজি (LPG) সংকটের মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল, তখন সিলিন্ডার মজুত করার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল ভারতজুড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হতেই ছবিটা একেবারে উল্টে গেল। এখন আর সিলিন্ডার নেওয়ার লাইন নেই, বরং লাইন লেগেছে বুকিং বাতিলের!

কেন ফিরছে সিলিন্ডার? ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, গত মাসে রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই প্যানিক বুকিং (Panic Booking) করেছিলেন। অর্থাৎ, বাড়িতে সিলিন্ডার মজুত থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নতুন করে বুকিং করে রাখেন। এখন যখন ডেলিভারি এজেন্ট বাড়িতে সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেন, তখন দেখা যাচ্ছে:

  • গ্রাহকের বাড়ির সিলিন্ডার এখনও ফাঁকা হয়নি।

  • সিলিন্ডার খালি না থাকায় নতুন রিফিল নিতে পারছেন না গ্রাহকরা।

  • ফলে বাধ্য হয়েই বুকিং বাতিল করতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে ভয়াবহ অবস্থা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট অর্ডারের প্রায় ৩০ শতাংশই পরের দিন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা ওটিপি (OTP) দিচ্ছেন না, যার ফলে ডেলিভারি এজেন্টদের বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ওটিপি না মেলায় বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় গোলযোগ তৈরি হচ্ছে।

ডেলিভারি এখন সুপারফাস্ট সংকটের সময় যেখানে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেই ছবি বদলেছে। ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন:

  • বর্তমানে বুকিংয়ের পর ২৫ দিনের মধ্যেই ডেলিভারি নিশ্চিত হচ্ছে।

  • বহু এলাকায় তো বুকিং করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে সিলিন্ডার।

  • অফিসের সামনে লম্বা লাইনের দৃশ্য এখন অতীত।

ডিস্ট্রিবিউটরদের আর্জি ঘনঘন বুকিং বাতিলের ফলে ডেলিভারি রুট এবং সময়— দুই-ই নষ্ট হচ্ছে। এক জায়গায় ডেলিভারি বাতিল হলে অন্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে এজেন্টের। তাই সিলিন্ডার সত্যিই খালি না হওয়া পর্যন্ত বুকিং না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে সত্যিকারের প্রয়োজনে থাকা মানুষ দ্রুত পরিষেবা পান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy