যখন-তখন বাইক নিয়ে বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা! কমিশনের নয়া ফরমান শুনেই ফুঁসে উঠলেন দিদি

২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ের আগে নির্বাচন কমিশনের একের পর এক নয়া নির্দেশিকায় তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার নজরদারির কোপ পড়ল বাইক চলাচলের ওপর। ভোটের আগে সন্ত্রাস রুখতে বাইক আরোহীদের গতিবিধিতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কমিশন। আর এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই নিয়ম আসলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ।

কমিশনের নয়া ফরমান: কী বলা হয়েছে?

নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে বাইক নিয়ে জটলা বা যখন-তখন যাতায়াতের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। বিশেষ করে:

  • বাইক র‍্যালি বা বড় বাইক মিছিলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ।

  • ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক চলাচলের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

  • সন্দেহভাজন বাইক আরোহীদের তল্লাশি এবং নথিপত্র যাচাইয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মমতার কড়া প্রতিক্রিয়া

মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়মকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে তোপ দেগেছেন। দলীয় এক সভা থেকে তিনি প্রশ্ন তোলেন:

  • “গ্রামের গরিব মানুষ তো বাইকেই যাতায়াত করে। এখন কি তারা কমিশনের ভয়ে ঘরে বসে থাকবে?”

  • তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

  • মমতার সাফ কথা, “বাইক নিয়ে মানুষ যখন তখন বেরোতেই পারে, এটা তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। কমিশন এভাবে জনজীবন স্তব্ধ করতে পারে না।”

রাজনৈতিক মহলে তরজা

বিরোধীরা অবশ্য কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিজেপির দাবি, গত পঞ্চায়েত বা বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাইক-বাহিনী’র তাণ্ডব দেখেছে বাংলা। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিজেপি আশ্রিত এলাকাগুলোতে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy