মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় পুলিশের ভয়কে উপেক্ষা করে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় পোরসা এলাকা থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করে একটি নির্জন গিরিখাতে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল অপরাধীর বিরুদ্ধে।
কী ঘটেছিল সেই গিরিখাতে? অভিযোগকারী সৌরভ তোমর পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে বাইক চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগ আনে এবং ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় পাঁচ যুবককে জোরপূর্বক একটি গিরিখাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাঠি, লাথি ও ঘুষি মেরে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্যাতন চলাকালীন তাদের ‘মোরগের মতো’ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, যা চরম অপমানের পর্যায়ে পড়ে। পুরো ঘটনার ভিডিও অভিযুক্তরা নিজেরাই ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
নির্যাতনের অডিও-ভিজ্যুয়াল দলিল ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি, তারা কোনো চুরির সঙ্গে যুক্ত নন। বারবার নিরপরাধ হওয়ার কথা জানানো সত্ত্বেও, জোর করে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য চালানো হয় এই তাণ্ডব। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অপরাধীরা যেভাবে এই দাদাগিরি চালিয়েছে, তা নিয়ে এখন স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সৌরভ তোমরের অভিযোগের ভিত্তিতে পোরসা থানায় আকাশ, খিলাড়ি, মনীশ সিং, ভিরু, বিষ্ণু সিং, হিমাংশু সিং, ছোটু এবং প্রমোদ তোমর—এই আটজনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি কঠোর হাতে দমন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মোরেনার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, দিনের আলোয় প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে কাউকে অপহরণ করে নির্যাতন চালানোর সাহস অপরাধীরা পেল কোথায়? প্রশাসন দ্রুত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





