ভারতের সাথে আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো রাজধানী দিল্লিতে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে যখন আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের বিশেষ অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও এবং ভারতে মার্কিন প্রতিনিধি সার্গিও গোর। অনুষ্ঠান চলাকালীন আচমকাই ফোন আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি আবারও বুঝিয়ে দিলেন যে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
মোদীর প্রশংসা ও বন্ধুত্বের বার্তা
ফোনের মাধ্যমেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের কথা ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারতকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন অসাধারণ নেতা। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু।” মোদীর প্রতি তাঁর এই ব্যক্তিগত ভালোবাসা এবং সম্মান আন্তর্জাতিক মহলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি একজন “মহান নেতা” হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
ভারতের ওপর ট্রাম্পের আস্থা
ভারতের সাথে আমেরিকার সুসম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প কোনো রাখঢাক করেননি। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “ভারত আমার ওপর ১০০ শতাংশ ভরসা রাখতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা একসাথে ভালো কাজ করছি এবং নতুন রেকর্ড গড়ছি। আমাদের রেকর্ড অর্থনীতি ও স্টক মার্কেট রয়েছে। ভারত যা চায়, সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।” ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি যেন নয়াদিল্লির মঞ্চ থেকে সারা বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিলেন।
মার্কো রুবিওর ভূয়সী প্রশংসা
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওকেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ সম্মান জানিয়েছেন। রুবিওকে তিনি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্টেট সেক্রেটারি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “মার্কো সবথেকে সেরা।” ট্রাম্পের এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য স্টেট সেক্রেটারি হিসেবে মার্কো রুবিওর গুরুত্ব ও ভারতের সাথে তাঁর বর্তমান ভারত সফরের প্রাসঙ্গিকতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক ফোন কলটি নিছক কোনো শুভেচ্ছা বার্তা ছিল না, বরং এটি ছিল কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন বার্তা। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এই কথোপকথন ভারত ও আমেরিকার ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভারতের ক্রমবর্ধমান বিশ্বমঞ্চ এবং আমেরিকার সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যে আগামী দিনে আরও গভীর হবে, তা ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট।





