করোনা অতিমারির স্মৃতি উসকে উত্তরপ্রদেশে আবারও শুরু হতে পারে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং অনলাইন ক্লাস। তবে এবার কোনো ভাইরাস নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া পেট্রোল সঙ্কট মোকাবিলা করতেই এই চরম পদক্ষেপের কথা ভাবছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
কালিদাস মার্গে জরুরি বৈঠক
মঙ্গলবার লখনউয়ের ৫ নম্বর কালিদাস মার্গে নিজের সরকারি বাসভবনে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে রাজ্য সচল রাখতে একগুচ্ছ বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অফিসে ধাপে ধাপে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু এবং স্কুল-কলেজে অনলাইন পঠনপাঠন ফিরিয়ে আনার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
মোদীর বার্তায় তৎপর প্রশাসন
সম্প্রতি গুজরাটের ভদোদরায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে দেশবাসীকে সংযমের অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন:
অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে হবে।
মেট্রো, ইলেকট্রিক বাস এবং গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করতে হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে যতটা সম্ভব বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসেছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য অনলাইন ক্লাসের পরিকাঠামো যেন ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকে।
কেন এই সতর্কতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের জেরে সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের তীব্র আকাল দেখা দিতে পারে। সেই পরিস্থিতি আসার আগেই বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করে রাখতে চাইছে লখনউ।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, খুব শীঘ্রই রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি হতে পারে। বিকল্প হিসেবে ‘কারপুলিং’ এবং ভার্চুয়াল মিটিংকে বাধ্যতামূলক করার পথেও হাঁটতে পারে যোগী সরকার।





