লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর হয়েছে, সেই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ক্ষুব্ধ দর্শকরা মেসি-দর্শন না করতে পেরে তাণ্ডব চালালে স্টেডিয়ামে যেতে গিয়ে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এই অবস্থার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসি-সহ সমস্ত দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা করেন।
বিচারপতি রায়ের বাড়িতে মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিব
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখা গেল প্রশাসনের অন্দরে। তদন্ত কমিটির সভাপতিত্ব করছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়। শনিবারই তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।
মুখ্যসচিবের বক্তব্য: বৈঠকের পর মুখ্যসচিব মনোজ কুমার পন্থ খুব বেশি কথা বলতে না চাইলেও জানান, “প্রাথমিকভাবে আলোচনায় বসেছিলাম। আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীকালে এই কাজ আরও এগোনো হবে।”
২ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমার লক্ষ্য
তদন্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায় রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
সময়সীমা: তিনি বলেন, “আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চেষ্টা করা হচ্ছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার।”
তদন্তের প্রক্রিয়া: তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক এবং কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
বিচারের আগে মন্তব্য নয়: বিচারপতি রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখনই কে দোষী কে দোষী নয় তা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তদন্ত শুরু হোক তারপরেই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হবে।” তিনি এও বলেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, অব্যবস্থার জন্য বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে এদিনই সন্ধ্যায় পুলিশ প্রথমে আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করে।





